কক্সবাজারের টেকনাফে পাহাড় থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হওয়া একটি বন্য হাতির জরুরি চিকিৎসাসেবা চলমান রয়েছে। গতকাল (১১ জুলাই ২০২৬) দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের টেকনাফ রেঞ্জের টেকনাফ সদর বিটের শিয়াইল্যা ঘোনা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খাদ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে হাতিটি একটি খাড়া পাহাড়ের ঢাল অতিক্রম করছিল। এ সময় টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ের একটি অংশ ধসে পড়লে হাতিটি প্রায় ৩০০ ফুট নিচে শিলাপাথরযুক্ত একটি ঝরনায় পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয়।
ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আহত হাতিটির সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বন বিভাগের কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করেন।
বর্তমানে বন্য হাতিটির অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। পাহাড় থেকে পড়ার কারণে এর পেটে গুরুতর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে, পেছনের একটি পা ভেঙে গেছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাত লেগেছে। প্রচণ্ড ব্যথার কারণে হাতিটি বর্তমানে দাঁড়াতে পারছে না।
এদিকে বৈরী আবহাওয়া ও ভারী বৃষ্টিপাত উপেক্ষা করে বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল টিম নিরলসভাবে বন্য প্রাণীটির চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। টেকনাফ উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভেটেরিনারি চিকিৎসক প্রথমে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। বর্তমানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল হাতিটির পেটের ক্ষতস্থানে অস্ত্রোপচারসদৃশ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, সেলাই এবং অন্যান্য জরুরি চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন সার্বক্ষণিকভাবে এই চিকিৎসা কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয় বজায় রাখছেন। এছাড়া আহত হাতিটির নিরাপত্তা ও উদ্ধার কাজে সহায়তার জন্য পুলিশ, জেলা প্রশাসন, বন বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে যে, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় সর্বোচ্চ চিকিৎসা, নিবিড় পরিচর্যা এবং সবার সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বন্য হাতিটিকে দ্রুত সুস্থ করে পুনরায় তার প্রাকৃতিক আবাসস্থলে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।
জেবি/এসএ