যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের পর দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। এ প্রেক্ষাপটে লেবার পার্টির নেতা নির্বাচনের দৌড়ে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। প্রয়োজনীয় সংখ্যক লেবার পার্টির আইনপ্রণেতার সমর্থন প্রায় নিশ্চিত করায় তিনি দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছেন। শুক্রবার (১০ জুলাই) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেবার পার্টির আইনপ্রণেতাদের বিপুল সমর্থন পাওয়ায় কিয়ার স্টারমারের উত্তরসূরি হিসেবে বার্নহ্যামের নেতৃত্ব গ্রহণ প্রায় নিশ্চিত। দলীয় নেতা নির্বাচিত হলে তিনিই যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হবেন।
বার্নহ্যাম জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রথম দিনেই তিনি লেবার পার্টির ৪০৩ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ৩২২ জনের সমর্থন পেয়েছেন। ফলে প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করতে তার আর মাত্র একজন আইনপ্রণেতার সমর্থন প্রয়োজন।
নিজের প্রার্থিতা ঘোষণার পর প্রকাশিত এক সংক্ষিপ্ত ভিডিও বার্তায় বার্নহ্যাম বলেন, “সবকিছু এখন খুব বাস্তব মনে হতে শুরু করেছে।”
লেবার পার্টির নেতৃত্বের জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী বৃহস্পতিবার। এরপর আগামী শুক্রবার বার্নহ্যামকে আনুষ্ঠানিকভাবে দলটির নতুন নেতা ঘোষণা করা হতে পারে। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ২০ জুলাই তাকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
বার্নহ্যাম ৩২৩টি মনোনয়ন নিশ্চিত করতে পারলে তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য প্রয়োজনীয় ৮১ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন সংগ্রহ করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে।
লেবার পার্টির কয়েকজন সংসদ সদস্য জানিয়েছেন, তারা বৃহস্পতিবার ভোট দিতে পারেননি। তবে সোমবার সংসদে ফিরে বার্নহ্যামের প্রতি সমর্থন জানাবেন।
এর আগে বুধবার রাতে সাবেক প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী আল কার্নস বার্নহ্যামের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার ঘোষণা দেন। এতে নেতৃত্বের দৌড়ে বার্নহ্যামের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।
লেবার পার্টির আইনপ্রণেতাদের মধ্যে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম অন্যতম জনপ্রিয় নেতা। জনমত জরিপেও তিনি দলীয় সমর্থকদের কাছে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছেন। প্রায় এক দশক ধরে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি। দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার কারণে তাকে ‘কিং অব দ্য নর্থ’ নামেও ডাকা হয়।
বার্নহ্যাম ২০০১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত লি আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। এ সময় তিনি যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য, সংস্কৃতিসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।
এর আগে তিনি দুবার লেবার পার্টির নেতৃত্বের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ২০১০ সালে এড মিলিব্যান্ড এবং ২০১৫ সালে জেরেমি করবিনের কাছে পরাজিত হলেও এবার দলীয় নেতৃত্ব গ্রহণের সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন।
সূত্র: রয়টার্স