ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে মৌলভীবাজারে বন্যা, পানিবন্দী ১০ হাজার মানুষ
✎ অবজারভার সংবাদদাতা
⏲ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ৬:২৭ পিএম
X

টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে অন্তত তিনটি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে আউশ ধানের ক্ষেত, গ্রামীণ সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিস্তীর্ণ জনপদ। হঠাৎ সৃষ্ট এই দুর্যোগে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, বুধবার রাতে ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের চাপে উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের মোখাবিল এলাকায় ধলাই নদীর প্রায় ১০০ মিটার বাঁধ ভেঙে যায়। এতে ইসলামপুর, মাধবপুর ও আদমপুর ইউনিয়নের একের পর এক গ্রাম বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়।

প্লাবিত গ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে মোখাবিল, গোলের হাওর, ভান্ডারিগাঁও, গঙ্গানগর, কোনাগাঁও, বেরীগাঁও, শ্রীপুর, পাতারিগাঁও, কালারায়বিল, আধকানী, ছনগাঁও, বন্দেরগাঁও, তেইতইগাঁও, ভানুবিল ও ঘোরামারা। এসব গ্রামের হাজারো পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। অনেক বাড়িতে কোমরসমান পানি ঢুকে পড়ায় পরিবারগুলো নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছে। বিভিন্ন সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ধলাই নদীর মোখাবিল এলাকার বাঁধটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। সময়মতো কার্যকর সংস্কার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া হলে এ ধরনের বড় ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হতো।

স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম ও সাজ্জাদ মিয়া জানান, বুধবার রাত প্রায় ১০টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে বাঁধ ভেঙে যায়। অল্প সময়ের মধ্যেই নদীর পানি আশপাশের গ্রামগুলোতে ঢুকে পড়ে। প্রায় ১০০ মিটার বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় কয়েকটি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

বন্যার পানিতে কয়েক একর আউশ ধানের ক্ষেতসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসল তলিয়ে গেছে। কৃষকদের আশঙ্কা, দ্রুত পানি না নামলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে জেলার প্রায় সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। মনু ও ধলাই নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পাশাপাশি কুশিয়ারা ও জুড়ী নদীর পানিও দ্রুত বাড়ছে। ফলে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ বলেন, ধলাই নদীর মোখাবিল এলাকায় ভাঙনের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তিনি জানান, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) আপত্তির কারণে সীমান্তসংলগ্ন ওই অংশে নদী প্রতিরক্ষা বাঁধের কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। যতটুকু কাজ করা সম্ভব হয়েছে, ততটুকুই বাস্তবায়ন করা হয়েছিল।

অন্যদিকে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। দুর্গত মানুষের জন্য শুকনো খাবারসহ জরুরি সহায়তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি পানিবন্দী পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে।

এসএস/আরএন


Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝