বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হয়ে নিম্নচাপে রূপ নেওয়ায় সাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে। এর প্রভাবে পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বৈরী আবহাওয়ার কারণে বরগুনার পাথরঘাটাসহ উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকার শত শত মাছ ধরার ট্রলার নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে এসেছে।
রোববার (৫ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, পাথরঘাটার মৎস্য বন্দর, পদ্মা, বাদুরতলা, জিনতলা ও কাকচিড়া এলাকায় শত শত ট্রলার নিরাপদে সারিবদ্ধভাবে নোঙর করে রাখা হয়েছে। শুধু পাথরঘাটা নয়, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকার ট্রলারও সেখানে আশ্রয় নিয়েছে।
জেলেরা জানান, গত ১১ জুন শেষ হওয়া ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে তারা নতুন আশায় সাগরে মাছ ধরতে নামেন। তবে প্রত্যাশিত ইলিশ ও অন্যান্য মাছ না পাওয়ায় অনেক ট্রলার লোকসানের মুখে পড়ে। কেউ কেউ ঋণ করে আবার সাগরে গেলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে দুই–তিন দিনের মধ্যেই ফিরে আসতে বাধ্য হন।
পাথরঘাটার ট্রলার মালিক মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, নিষেধাজ্ঞা শেষে দুই দফা সাগরে গিয়ে লোকসান গুনতে হয়েছে। পরে ঋণ করে আবার সাগরে গেলেও উত্তাল সাগরের কারণে মাত্র দুই দিনের মাথায় ফিরে আসতে বাধ্য হন তারা। নতুন করে সতর্ক সংকেত জারি হওয়ায় ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে বলে তিনি জানান।
চট্টগ্রামের ট্রলার এফবি মাসুম-৩-এর মাঝি সোনা মিয়া বলেন, সাগর অত্যন্ত উত্তাল থাকায় সেখানে অবস্থান করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তাই নিরাপত্তার জন্য তারা পাথরঘাটায় এসে ট্রলার নোঙর করেছেন।
বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, নিষেধাজ্ঞা শেষে কাঙ্ক্ষিত মাছ না পাওয়ায় মালিকরা আগেই লোকসানে ছিলেন। এর মধ্যে বৈরী আবহাওয়া পরিস্থিতি সংকট আরও বাড়িয়েছে।
পাথরঘাটা উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা হাসিবুল হক জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে শত শত ট্রলার ও হাজারো জেলে নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করছেন। জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের উপকূলে থাকতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে এলে তারা আবারও সাগরে মাছ শিকারে যেতে পারবেন।
আইএইচ/এসআর