জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও আদারভিটা ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি নিজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারিসহ টাকা ও স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ ও অপহরণের অভিযোগে দলীয় পদ স্থগিত করা হয়েছে।
রবিবার (৫ জুলাই) মাদারগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান রতন স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।
জনৈক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে নিজাম উদ্দিনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রচারিত হলে দলের ভাবমূর্তি ও সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ায় তার পদ স্থগিতের পাশাপাশি কেন স্থায়ীভাবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না—তা তিনদিনের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে।
সূত্র জানায়, জামালপুর প্রেসক্লাবে গত ২ জুলাই (বুধবার) জনৈক প্রবাসীর স্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, মাদারগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও আদারভিটা ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি নিজাম উদ্দিন তাকে জমি কিনে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে ১৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা ও ৮ ভরি স্বর্ণালঙ্কার আত্মসাৎ করেন।
টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার ফেরত চাইলে ওই নারীকে একাধিকবার জোরপূর্বক আটকে রাখা হয়। পরে তাকে ও তার শিশুসন্তানকে অপহরণ করে ডাবের পানির সাথে কিছু খাইয়ে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে সাদা কাগজ ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর আদায় করে। একইসাথে প্রবাসী স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করে নিজাম উদ্দিনকে বিয়ে এবং ফের নিজামকে তালাক দেওয়ার জাল কাগজে টিপসহি নেয়। শহরের বোসপাড়ার বাসায় টানা ১১ দিন অবরুদ্ধ রেখে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাধিকবার যৌন নির্যাতন এবং ভিডিও ধারণ করে তা প্রকাশের হুমকি দেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ৩০ জুন জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলা দায়ের করেন। মামলা ও সংবাদ প্রকাশের পর শিশুসন্তানসহ প্রবাসী স্বামী-স্ত্রীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।
এব্যাপারে অভিযুক্ত নিজাম উদ্দিনকে মুঠোফোনে কল করা হলে দলীয় পদ স্থগিতের বিষয়টি স্বীকার করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, "আমরা বৈধ স্বামী-স্ত্রী ছিলাম, সে আমাকে তালাক দিয়ে পূর্বের স্বামীর কাছে গিয়ে এসব অভিযোগ করছে।"
তিনি উল্টো অভিযোগ করে বলেন, "আমি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী। আমাকে দলীয় ও সামাজিকভাবে হেয় করতে একটি মহল চক্রান্ত করছে, তারই অংশ হিসেবে এসব অপপ্রচার।"
জেডজেড/ এসআর