কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ রাজারহাট-আনন্দবাজার সড়কের সংস্কারকাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দ্রুত সড়কের কাজ সম্পন্ন, দায়ী ঠিকাদারের শাস্তি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপের দাবিতে মানববন্ধন ও গণবিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন এলাকাবাসী।
রোববার (৫ জুলাই) সকাল ১১টায় রাজারহাট বাজারের সাবেক সোনালী ব্যাংক চত্বরে রেল-নৌ যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটি, রাজারহাট উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। কর্মসূচি শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বরাবর একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, রাজারহাট বাজারের সাবেক সোনালী ব্যাংক মোড় থেকে ফরকেরহাট হয়ে আনন্দবাজার পর্যন্ত প্রায় ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি প্রায় ৭০ হাজার মানুষের একমাত্র চলাচলের পথ। প্রায় ১৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটির সংস্কারকাজের নির্ধারিত মেয়াদ ছিল ২০২৬ সালের ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে পারেনি। দীর্ঘদিন ধরে সড়ক খুঁড়ে ফেলে রাখায় এটি এখন চলাচলের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মানববন্ধন-পরবর্তী সমাবেশে বক্তব্য দেন রেল-নৌ যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটির সংগঠক খন্দকার আরিফ, তারেক রহমান ও আব্দুল্লাহ আল মামুন।
বক্তারা বলেন, সড়কে দীর্ঘদিন ধরে খোঁড়াখুঁড়ির কারণে ধুলাবালির সৃষ্টি হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থী, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জিসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসমস্যায় ভুগছেন। একই সঙ্গে জরুরি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের যানবাহন সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না। ভাঙাচোরা সড়কের সুযোগ নিয়ে রিকশা ও অটোরিকশা চালকদের অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও করেন তারা।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হলেও ঠিকাদার কাজ পুনরায় শুরু করেননি। এ কারণে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তারা দ্রুত ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, সংস্কারকাজ সম্পন্ন এবং জনদুর্ভোগ নিরসনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেন। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণারও হুঁশিয়ারি দেন।
পিএমএস/এসআর