জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, তার বিরুদ্ধে এক টাকার দুর্নীতিরও প্রমাণ দিতে পারলে তিনি সংসদ সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দেবেন।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ব্যক্তিগত কৈফিয়ত দেওয়ার সময় তিনি এ চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম এই ছাত্রনেতা সরকারি দলের উদ্দেশে বলেন, “বর্তমানে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আপনাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ডিজিএফআই, এনএসআই, পুলিশ ও সামরিক বাহিনী—সবই আপনাদের অধীনে। দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে অভিযোগের জন্য অভিযোগ না এনে তদন্ত করুন। যদি আমার বিরুদ্ধে এক টাকার দুর্নীতি বা কোনো ধরনের অসদুপায়ের প্রমাণ দিতে পারেন, তাহলে আমি এই সংসদ থেকে ইস্তফা দেব।”
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে সংসদে ময়মনসিংহ-১০ আসনের বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান মন্তব্য করেন, “যারা জুলাই চেতনা বিক্রি করেন, তাদের অনেকেই আগে রিকশায় চলাফেরা করতেন, এখন প্রাডো গাড়িতে চড়েন।” মাগরিবের বিরতির আগে দেওয়া বক্তব্যে এ মন্তব্যের জবাব দেন হাসনাত আবদুল্লাহ।
সংসদে বাজেট আলোচনার সময় কুমিল্লা-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেছিলেন, তিনি সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রীর সমালোচনা করলেও তার নির্বাচনী এলাকার জনগণ যেন বাজেট বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত না হন।
তবে তার ওই বক্তব্যের সমালোচনা করেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান। তিনি বলেন, “বরাদ্দ কোনো ব্যক্তিকে দেওয়া হয় না, বরং এলাকার মানুষের উন্নয়নের জন্য দেওয়া হয়।” একই সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় হাসনাত আবদুল্লাহ তার নির্বাচনী এলাকার জন্য বিশেষ বরাদ্দ নিয়েছিলেন বলেও ইঙ্গিত করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে ব্যক্তিগত কৈফিয়তে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, তার বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমি কোথাও বলিনি আমাকে বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত করা হবে। আমি বলেছি, আমার বক্তব্য বা সমালোচনার কারণে যেন আমার এলাকার মানুষ উন্নয়ন ও বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত না হন।”