ঢাকার পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দম্পতি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের পক্ষে উচ্চ আদালতে আইনি লড়াই করবেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান।
আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগের এক কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত ১৭ জুন হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগের নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী আইনজীবী হাফিজুর রহমান খানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
হাফিজুর রহমান খান বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী নিম্ন আদালত কোনো আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিলে হাইকোর্টের অনুমোদন ছাড়া সেই দণ্ড কার্যকর করা যায় না। এ প্রক্রিয়াটি ‘ডেথ রেফারেন্স’ নামে পরিচিত। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আসামির নিজস্ব আইনজীবী না থাকলে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়ার বিধান রয়েছে। সেই দায়িত্বের অংশ হিসেবেই তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, মামলার পেপারবুক ইতোমধ্যে তার হাতে এসেছে। এখন তিনি নথিপত্র বিস্তারিত পর্যালোচনা করবেন এবং শুনানির সময় আদালতে আসামিদের আইনগত অধিকার ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তুলে ধরবেন।
গত ৭ জুন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি সোহেলকে পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। আদালত তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগী পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
রায়ের পর দুই আসামিকে কনডেম সেলে পাঠানো হয়। পরে তারা রায়ের বিরুদ্ধে জেল আপিল করেন। গত ৯ জুন মামলার ৬৯ পৃষ্ঠার রায়সহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র সুপ্রিম কোর্টে পাঠানো হয়।
রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, একটি নিষ্পাপ শিশুর জীবন নির্মমভাবে নিভিয়ে দেওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া এ মামলার প্রতিটি পৃষ্ঠা বেদনা, ক্ষোভ ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশার প্রতিফলন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের একটি অ্যাপার্টমেন্টে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করত দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা। একই ভবনের একটি ফ্ল্যাটে সাবলেট থাকতেন সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার।
গত ১৯ মে দুপুরে সোহেলদের বাসা থেকে রামিসার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে স্বপ্নাকে আটক করা হয়। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সোহেল রানাকে।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে স্বপ্না দাবি করেন, সোহেল রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন এবং মরদেহ গুমের চেষ্টা করেন। পরদিন আদালতে সোহেল দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। বিচার শুরু হওয়ার ১৯ দিনের মাথায় মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।
-টিএস