দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর সম্পর্কের নতুন ভিত্তি গড়তে বৈঠকে বসেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ফ্রান্সের রিভিয়েরা উপকূলীয় শহর আঁতিবে তাদের প্রথম আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, ইউরোপীয় রাজনীতিতে দুই নেতার সম্পর্ক এতদিন অভিবাসন, বাণিজ্য, ইউক্রেন যুদ্ধ ও সামাজিক নীতিসহ নানা ইস্যুতে মতবিরোধের কারণে উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। তবে সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় ফ্রান্স ও ইতালি নতুন করে ঘনিষ্ঠ হওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কের পর ইউরোপীয় ঐক্যের প্রশ্নটি আরও গুরুত্ব পেয়েছে। সম্প্রতি ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, জি-৭ সম্মেলনে মেলোনি তার সঙ্গে ছবি তোলার অনুরোধ করেছিলেন। জবাবে ইতালির প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ইতালি এবং আমি কখনো কারও কাছে অনুরোধ করি না।”
ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, বৈঠকের মূল লক্ষ্য হলো ফ্রান্স-ইতালি সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে সমন্বয় বৃদ্ধি করা।
বৈঠকে প্রতিরক্ষা, মহাকাশ প্রযুক্তি, জ্বালানি ও পারমাণবিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে। এছাড়া ২০২৬-২০৩১ মেয়াদের একটি প্রতিরক্ষা রোডম্যাপ এবং পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনাও রয়েছে।
এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজেট, কৃষি ভর্তুকি, ইউক্রেন পরিস্থিতি ও ইউরোপের নিরাপত্তা ইস্যুতেও দুই নেতা অভিন্ন অবস্থান খুঁজে বের করার চেষ্টা করবেন।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ব্যক্তিগত সম্পর্ক খুব বেশি উষ্ণ না হলেও বর্তমান আন্তর্জাতিক বাস্তবতা ফ্রান্স ও ইতালিকে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। ফলে ম্যাক্রোঁ-মেলোনির এই বৈঠক শুধু দুই দেশের সম্পর্ক নয়, ইউরোপীয় রাজনীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনাতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
-টিএস