লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে দুই মেয়েসহ এক নারীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় অপর এক মেয়েকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। একই ঘটনায় স্থানীয়দের গণপিটুনিতে অন্তর মজুমদার নামে সন্দেহভাজন এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন শাহীনুর বেগম এবং তার দুই মেয়ে। আহত ইকরা আক্তার (১৭) রায়পুর কাজী ফারুকী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। নিহতদের আরেক মেয়ে সায়মা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক বছর আগে শাহীনুরের স্বামী মো. কামাল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এরপর তিনি তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে ওই বাসায় বসবাস করছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে দুর্বৃত্তরা শাহীনুর ও তার মেয়েদের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই শাহীনুর ও তার দুই মেয়ে নিহত হন এবং গুরুতর আহত হন ইকরা।
স্থানীয়রা ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে অন্তর মজুমদার নামে এক যুবককে আটক করে গণপিটুনি দেয়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অরুপ পাল জানান, হাসপাতালে আহত অবস্থায় পাঁচজনকে আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে মা ও দুই মেয়ে মারা গেছেন। গুরুতর আহত এক মেয়েকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এছাড়া গণপিটুনিতে আহত এক যুবকও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম বলেন, নিহত ও আহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) মো. আব্দুর রাশেদ বলেন, ঘটনার কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে উত্তেজিত জনতার ছোড়া ইটপাটকেলে পুলিশের ৬ থেকে ৭ জন সদস্য আহত হন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।
-টিএস