নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে প্রায় ২০০ বছরের পুরনো শ্মশান ও মন্দিরের উন্নয়নকাজে আপাতত আর কোনো আইনি বাধা নেই। আম্বার পেপার মিলসের করা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন খারিজ করে শ্মশানের পক্ষে রায় দিয়েছেন আদালত।
রোববার (২১ জুন) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতের বিচারক শারমিন আক্তার পিংকি এ আদেশ দেন।
রায়ের পর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। ফলে শ্মশানের উন্নয়নকাজ চালিয়ে যেতে আর কোনো আইনি বাধা নেই। জনস্বার্থ ও স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবির বিষয়টি আদালত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছেন। এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে, মামলার বাদীপক্ষ আম্বার পেপার মিলসের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মজিদ খন্দকার বলেন, “আমরা প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র আদালতে উপস্থাপন করেছি। আজকের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাব। আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমাদের অবস্থান তুলে ধরব এবং আইনি লড়াই অব্যাহত রাখব।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিদ্ধিরগঞ্জের আজিবপুর এলাকায় অবস্থিত প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো শ্মশান ও মন্দিরটি ১৭৯৩ সাল থেকে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ১০ নম্বর ওয়ার্ড এবং পার্শ্ববর্তী সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর ও মদনগঞ্জ এলাকার হাজারো হিন্দু ধর্মাবলম্বীর শেষকৃত্য সম্পন্ন করার অন্যতম প্রধান স্থান এটি।
বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে প্রায় ৭ একর জমির মধ্যে শ্মশান ও মন্দিরের জন্য ব্যবহৃত ৩১ শতাংশ জমি। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ওই স্থানে শ্মশান ও মন্দির থাকলেও শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি পুরো জমির মালিকানা দাবি করে আসছে।
বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে প্রায় ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে শ্মশানটির আধুনিকায়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পের আওতায় আধুনিক দাহ চুল্লি, গোসলখানা ও অফিস ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। উন্নয়নকাজের অংশ হিসেবে একাধিক পাইলিং পিলার স্থাপন করা হলেও আদালতের স্থিতাবস্থা আদেশের কারণে কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এরশাদ সরকারের আমলে প্রায় ৭০০ শতাংশ জমি এক টাকার বার্ষিক মূল্যে স্থায়ী বন্দোবস্তের মাধ্যমে আম্বার পেপার মিলসকে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে ওই এলাকার জমির বাজারমূল্য অনুযায়ী সম্পত্তিটির মূল্য শত কোটি টাকারও বেশি বলে দাবি করা হচ্ছে।
শ্মশান কমিটির অভিযোগ, ১৯৮৯ সালে লিজ গ্রহণের সময় শ্মশানের জন্য ব্যবহৃত ৩১ শতাংশ জমির বিষয়টি গোপন করা হয়েছিল। এ বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
আদালতের সর্বশেষ আদেশে উন্নয়নকাজ পুনরায় শুরু হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ রায়ের ফলে শুধু আধুনিকায়ন প্রকল্পের কাজই এগিয়ে যাবে না, দীর্ঘদিনের জমি-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির পথও আরও সুগম হতে পারে।
এসএস/এসআর