দেশের উচ্চশিক্ষাকে কর্মমুখী করতে শিক্ষা কাঠামোতে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন খসড়া মডেল অনুযায়ী বাংলা, ইতিহাস, দর্শনসহ প্রায় ছয় বিষয়ের অনার্স কোর্স বাতিল করা হচ্ছে। এসব বিষয় অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
একইসঙ্গে আইটি ও কারিগরির বিষয় বাড়ানো হচ্ছে। শিক্ষার সঙ্গে কর্মসংস্থানের সংযোগ বাড়াতে পাঠ্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার সিকিউরিটি, আউটসোর্সিং ও অন্যান্য প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতাভিত্তিক বিষয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিষয়টি এখনো প্রাথমিক আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কলেজ পর্যায়েই চালু হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ, প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে ক্যারিয়ার সেন্টার এবং শেখানো হবে সাতটি বিদেশি ভাষা।
অনার্স পর্যায়ে বাংলা, ইতিহাস ও দর্শনের মতো বিষয় বন্ধ করার সিদ্ধান্ত সেই রকম এক গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। একটি জাতি কি কেবল প্রযুক্তি, ব্যবসা আর পেশাভিত্তিক দক্ষতার ওপর দাঁড়িয়ে টিকে থাকতে পারে?
মানুষকে মানুষ বানায় তার ভাষা, তার ইতিহাস, তার সংস্কৃতি, তার ভাবনা ও বোধের জগৎ। বাংলা বিভাগ শুধু সাহিত্য পড়ায় না, আমাদের ভাষার ভিত তৈরি করে।
ইতিহাস শুধু রাজা-বাদশার গল্প নয়, এটি জাতির আত্মপরিচয়ের ইতিহাস। আর দর্শন শেখায় প্রশ্ন করতে, যুক্তি খুঁজতে, সত্যকে যাচাই করতে। এগুলো যদি উধাও করে দেয়নি হয়, জাতির থাকবে কি? মেরুদণ্ড তো এখন আর নেইই, যতটুকু আছে তাও ভেঙে ফেলা হচ্ছে।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী দেশে সনদনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে দক্ষতাভিত্তিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং বাস্তব ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশনা দেন।
পরে একাধিক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, 'আমরা এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে শুধু ডিগ্রি অর্জন নয়, বরং দক্ষ ও কর্মক্ষম মানবসম্পদ তৈরি হবে।'
শিক্ষাবিদরা বলেন, কর্মের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারছে না দেশের প্রচলিত শিক্ষা। এ জন্য দিন দিন শিক্ষিত ও তরুণ বেকারের চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার আশঙ্কাজনক। দেশে উচ্চশিক্ষিত বেকারত্বের হার গত ১৩ বছরে আট গুণ বেড়েছে। দেশে ৮৫ শতাংশ কর্মসংস্থানই অপ্রাতিষ্ঠানিক।
এমএ