দেশের বিভিন্ন জেলায় তীব্র আকার ধারণ করেছে গ্যাস সংকট। এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে সিএনজিচালিত যানবাহনের চালকদের ওপর। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফিলিং স্টেশনে অপেক্ষা করেও অনেক চালক গ্যাস পাচ্ছেন না। কোথাও আবার দিনের অধিকাংশ সময়ই গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা। একই সঙ্গে আবাসিক এলাকাতেও গ্যাসের স্বল্পচাপে দুর্ভোগ বাড়ছে।
গত তিন দিন ধরে ময়মনসিংহের বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে উল্লেখযোগ্য হারে গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। মধ্যরাত থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক চালক গ্যাস ছাড়াই ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত সীমিত পরিমাণে গ্যাস সরবরাহ করা হলেও সকাল ১০টার পর অধিকাংশ স্টেশন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
চালকদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় লাইনে অপেক্ষা করায় দৈনিক আয় কমে যাচ্ছে, অথচ কিস্তি ও অন্যান্য খরচ বহাল রয়েছে। ফলে জীবিকা নির্বাহ কঠিন হয়ে পড়েছে।
শুধু সিএনজি ফিলিং স্টেশনে নয়, রাজধানীর বাসা বাড়িতেও গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। অনেকেই রান্না করার জন্য গ্যাস পাচ্ছে না।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার গৃহিণীরা জানান, দিনের বেশিরভাগ সময় চুলায় গ্যাস থাকছে না। ফলে সময়মতো রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক সময় চুলায় সামান্য আগুন জ্বললেও তা দিয়ে রান্না করা যাচ্ছে না। এতে পরিবারের দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
মিরপুরের বাসিন্দা আসমা বলেন, সকাল থেকেই চুলায় গ্যাসের চাপ খুব কম। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও রান্না করতে পারিনি। বাধ্য হয়ে শেষ পর্যন্ত বাইরে থেকে খাবার কিনে আনতে হয়েছে।
যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা মিতু বলেন, বাসায় গ্যাস থাকলেও চাপ এতটাই কম যে স্বাভাবিকভাবে রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই বিকল্প উপায়ে রান্না করতে হচ্ছে, এতে অতিরিক্ত খরচের চাপ বাড়ছে।
এদিকে রাজধানী সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকটে সিএনজি স্টেশনগুলোতেও দেখা দিয়েছে দীর্ঘ সারি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক চালক গ্যাস পাচ্ছেন না। ফলে যাত্রী নিয়ে রাস্তায় বের হতে না পেরে অনেকেই আয়-রোজগার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে নরসিংদী জেলার ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় কোথাও সীমিত পরিসরে, আবার কোথাও সাময়িকভাবে গ্যাস বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি চালকদের আয়ও কমে যাচ্ছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়ও গ্যাসের নিম্নচাপের কারণে ফিলিং স্টেশনগুলোতে স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। দিনে একাধিকবার গ্যাসের চাপ শূন্যের কোঠায় নেমে যাওয়ায় সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। জেলার পাঁচটি ফিলিং স্টেশনে প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহ করা হলেও চাহিদা প্রায় দ্বিগুণ বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় চাপের গ্যাস না পাওয়ায় একটি গাড়িতে অল্প পরিমাণ গ্যাস তুলতেই কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে পরিবহনসেবা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চালকদের আর্থিক ক্ষতিও বাড়ছে।
এদিকে, কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাতে পারেনি তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক (প্রকৌশল) মো. শফিকুল হক বলেন, জাতীয় পর্যায়ের গ্যাস সংকটের প্রভাব মাঠপর্যায়ে পড়েছে। পরিস্থিতির উন্নয়নে কাজ চললেও সংকট পুরোপুরি কাটতে আরও এক থেকে দুই মাস সময় লাগতে পারে।
গ্যাস সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সিএনজি অটোরিকশাচালক, ফিলিং স্টেশন মালিক এবং সাধারণ গ্রাহকরা।
এসআর