ঈদুল আজহার ছুটি শুরু হওয়ায় শিল্পাঞ্চল সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীরা বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন। প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ায় নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে যানবাহনের ধীরগতি দেখা দিয়েছে। বুধবার (২৭ মে) সকাল থেকে বৃষ্টির কারণে ভোগান্তিও বেড়েছে।
আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১ সূত্রে জানা গেছে, সাভার ও আশুলিয়ার প্রায় দেড় হাজার পোশাক কারখানা ও অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে ঈদের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। গত দুই দিনে প্রায় ৮০ শতাংশ শ্রমিক-কর্মচারী বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। বুধবার বাকি কারখানাগুলো ছুটি দেওয়ায় সড়কে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা-আরিচা ও নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে বড় ধরনের যানজট না থাকলেও নবীনগর পল্লীবিদ্যুৎ এলাকা থেকে বাইপাইল এবং শ্রীপুর থেকে নন্দনপার্ক পর্যন্ত কয়েকটি পয়েন্টে ধীরগতি রয়েছে। বৃষ্টির কারণে সড়কের খানাখন্দে যান চলাচল আরও ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে পরিবহন সংকটের কারণে বহু যাত্রীকে সড়কে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। অনেকে নির্ধারিত টিকিট না পেয়ে লোকাল বাস, ট্রাক কিংবা পিকআপ ভ্যানে করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছেন। যাত্রীদের অভিযোগ, অতিরিক্ত চাপের সুযোগ নিয়ে পরিবহন কর্তৃপক্ষ কয়েকগুণ বেশি ভাড়া আদায় করছে।
গাইবান্ধাগামী পোশাক কারখানার সুপারভাইজার আশরাফ আলী জানান, পরিবার নিয়ে সকাল থেকে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছেন। কিন্তু অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে বাসে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে ট্রাকে যাওয়ার কথা ভাবছেন তিনি।
অন্যদিকে পোশাক শ্রমিক আমজাদ হোসেন বলেন, বাইপাইল এলাকায় কাঙ্ক্ষিত টিকিট না পেয়ে লোকাল বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন। যেখানে বগুড়ার ভাড়া সাধারণত ৫০০ টাকা, সেখানে এখন এক হাজার টাকা চাওয়া হচ্ছে।
সাভার হাইওয়ে থানা–র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান মিয়া বলেন, মহাসড়কে বড় ধরনের যানজট নেই। তবে বৃষ্টি, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ এবং যত্রতত্র গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে কিছু এলাকায় ধীরগতি সৃষ্টি হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
এছাড়া ঢাকা উত্তর ট্রাফিক পুলিশ–এর পরিদর্শক (প্রশাসন) রুহুল আমিন সোহেল জানান, নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের বিভিন্ন বাস কাউন্টারের সামনে যাত্রী চাপ বেশি থাকায় মাঝে মধ্যে যান চলাচলে ধীরগতি তৈরি হচ্ছে।
আরএন