ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে ৪৭ কিলোমিটার এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, সড়কে একাধিক গাড়ি বিকল হওয়া এবং বৃষ্টির কারণে এ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে ঈদে ঘরমুখো মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের দুর্ভোগ বেশি হচ্ছে।
বুধবার (২৭ মে) ভোর থেকে যমুনা সেতুর টোল প্লাজা থেকে সদর উপজেলার ঘারিন্দা পর্যন্ত এবং নাটিয়াপাড়া থেকে গোড়াই পর্যন্ত এ যানজটের সৃষ্টি হয়।
পুলিশ ও যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, রাতভর গাজীপুরের চন্দ্রা এলাকায় তীব্র যানজট ছিল। এর প্রভাব পড়ে টাঙ্গাইল অংশে। মহাসড়কের যমুনা সেতু থেকে মির্জাপুর পর্যন্ত যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। ফলে মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই থেকে দেলদুয়ার উপজেলার নাটিয়াপাড়া পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার এবং টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটার যানবাহনের জটলা তৈরি হয়।
যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে মঙ্গলবার রাত ১২টা ২০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা ৪০ মিনিট এবং বুধবার ভোর ৪টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত দুই দফায় একমুখী যানবাহন চলাচল করা হয়। এছাড়া সেতুতে রাত ১২টা থেকে এখন পর্যন্ত পাঁচটি গাড়ি বিকল হয়েছে।
মৌচাক থেকে আসা পাবনাগামী আফাজ মিয়া বলেন, “চন্দ্রা থেকে যানবাহনের ধীরগতি। টাঙ্গাইল থেকে যানজট। দেড় ঘণ্টার সড়ক পাড়ি দিতে সময় লেগেছে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা। মহাসড়কের পৌলিতে এসেও আটকে আছি।”
নারী যাত্রী খোদেজা বেগম বলেন, “আমি নাটোর যাব। ঢাকার মৌচাক থেকে ধীরগতি। টাঙ্গাইলের ঘারিন্দার পর থেকে যানজট। নয় ঘণ্টায়ও টাঙ্গাইল পার হতে পারলাম না।”
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, “বৃষ্টি, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ এবং সেতুর ওপর একাধিক গাড়ি বিকল হওয়ার কারণে যানজট তৈরি হয়েছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।”
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, “ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের টাঙ্গাইল অংশজুড়ে যানবাহনের চাপ রয়েছে। বৃষ্টির কারণে যানবাহন ধীরগতিতে চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।”
আরএন