স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, আগের দুই সরকার বিদেশি দাতা সংস্থার কাছ থেকে টিকা সংগ্রহ না করে বেসরকারি খাতের মাধ্যমে কেনার চেষ্টা করেছিল। মূলত অর্থ লুটপাটের উদ্দেশ্যেই তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেলে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় অসহায় জনগোষ্ঠীর মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, “বিদেশি দাতা সংস্থার কাছ থেকে টিকা সংগ্রহ না করে প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কেনার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু লাভজনক সমঝোতা না হওয়ায় তারা শেষ পর্যন্ত টিকাই কেনেনি। ফলে ২০২০ সালের পর থেকে দেশে হামের টিকা কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর দ্রুত টিকার ব্যবস্থা করেছি এবং টিকাদান কার্যক্রম চালু করেছি। এর ফলে বর্তমানে হামের প্রাদুর্ভাব অনেকটাই কমে এসেছে। আশা করছি, এক সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি আরও উন্নতি হবে।”
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “ডেঙ্গু মোকাবিলায় ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। হাসপাতালগুলোতে এক লাখ স্যালাইন সরবরাহ করা হয়েছে। স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করতে বড় বাজেট নেওয়া হয়েছে। আগামী জুলাই মাসে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যার মধ্যে ৮০ হাজার হবেন নারী স্বাস্থ্যকর্মী।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম এ মুহাইমিন আল জিহান। উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী জেলা বিএনপির সহসভাপতি সরদার তোফাজ্জল হোসেন লিয়াকত, উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আমিনুর রহমান সরকার দোলন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সজিব মিয়া, মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর বাদশা, পৌর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবদুল হান্নান, উপজেলা বিএনপির সদস্য মো. গোলাম মোস্তফা, উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মাসুদুর রহমান এবং মায়ান প্রকাশনীর কর্ণধার মাহমুদুল সোহাগসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনোহরদী উপজেলার প্রায় শতাধিক দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে নগদ অর্থ সহায়তা বিতরণ করেন।
এইচআর/আরএন