ঢাকার সাভারে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং মাদক কারবারিদের হামলায় দেশ টেলিভিশনের সিনিয়র সাংবাদিক তাইফুর রহমান তুহিন ও এসএ টিভির সাংবাদিক সাদ্দাম গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী শামীমকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলীকে ক্লোজড করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেলে তাকে সাভার মডেল থানার দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে ঢাকা জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন।
শামীমা পারভীন জানান, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি এখনও গ্রেপ্তার না হওয়া এবং সাভারের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে একই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আরও তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে সাভার থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়।
তারা হলেন— সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনির, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আসিফুর এবং এএসআই মেরাজ। সাভারের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী শামীমের সঙ্গে যোগাযোগের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সোমবার তাদের তাৎক্ষণিকভাবে ক্লোজড করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।
প্রসঙ্গত, গত ২২ মে সাভারের রাজাসন এলাকায় শীর্ষ মাদক কারবারি শামীমের আস্তানায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন সাংবাদিকরা। এ ঘটনায় পুলিশ পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করতে পারলেও মূল হোতা ও প্রধান আসামি শামীম এখনও পলাতক রয়েছে।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় ২১ জনের নাম উল্লেখ করে সাভার মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হলেও এখনো পর্যন্ত মূল অভিযুক্ত শামীমকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক মহলসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সাভারে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও অপরাধ কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা অভিযোগ থাকলেও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
ওএফ/আরএন