আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে খুলনা বিভাগের বৃহত্তম পশুর হাট জোড়াগেট পশুর হাট পরিদর্শন করেছেন র্যাব-৬ খুলনার অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় তিনি হাট পরিদর্শনে গিয়ে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ বলেন, 'ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই ঘরমুখো মানুষের চাপ ও পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়ছে। এই পরিস্থিতি মাথায় রেখে র্যাব-৬ তিন ধাপে নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।'
তিনি বলেন, 'প্রথম ধাপে ঈদের আগ পর্যন্ত ঘরে ফেরা মানুষদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে মহাসড়ক, গুরুত্বপূর্ণ স্পট ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে হাইওয়ে পেট্রোলিং ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। রেল স্টেশন ও বাসস্ট্যান্ডে অজ্ঞান পার্টি ও ছিনতাই প্রতিরোধে সাদা পোশাকে র্যাব সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।'
তিনি আরও বলেন, 'দ্বিতীয় ধাপে কোরবানির পশুর হাট ও ঈদের জামাতকে কেন্দ্র করে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। র্যাব-৬ এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় মোট ১২১টি পশুর হাটে পর্যায়ক্রমে টহল ও নজরদারি পরিচালনা করা হচ্ছে। পশুবাহী যানবাহন যাতে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে এবং কোথাও চাঁদাবাজির শিকার না হয়, সে বিষয়েও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।'
র্যাব-৬ অধিনায়ক বলেন, 'হাটে জাল টাকার প্রতারণা ঠেকাতে র্যাবের টহল টিমের কাছে জাল টাকা শনাক্তকারী মেশিন সরবরাহ করা হয়েছে। এতে ক্রেতা ও বিক্রেতারা নিরাপদে লেনদেন করতে পারবেন।'
ঈদের দিনকে কেন্দ্র করে খুলনা বিভাগের আট জেলায় বড় বড় ঈদের জামাতে র্যাবের বিশেষ টিম মোতায়েন থাকবে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি অন্যান্য জামাতেও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
তৃতীয় ধাপে ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান নিস্তার আহমেদ।
তিনি বলেন, 'দেশবাসীর সহযোগিতা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টায় আমরা একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ ঈদ উপহার দিতে সক্ষম হব বলে বিশ্বাস করি। র্যাব-৬ সর্বদা জনগণের পাশে ছিল, আছে এবং থাকবে।'
পরে তিনি জোড়াগেট পশুর হাটের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা পরিদর্শন করেন।
এসএম/এমএ