ভোলার চরফ্যাশনে একটি ২৩০/৩৩ কেভি উচ্চ ভোল্টেজ জিআইএস (গ্যাস ইনসুলেটেড সুইচগিয়ার) গ্রিড সাবস্টেশন পরীক্ষামূলক ভাবে চালু করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে রোববার আধুনিক সাবস্টেশনটি আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ-পশ্চিম সঞ্চালন গ্রিড সম্প্রসারণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও সুপারভাইজিং ইঞ্জিনিয়ার মামুন হাসান, গ্রিড সার্কেল খুলনার সুপারিনটেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ার মো. আরিফুর রহমান, জিএমডি বরিশালের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিযার আখতারুজ্জামান পলাশ, প্রকল্প এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার আনিসুজ্জামান এবং সিস্টেম প্রোটেকশন খুলনা বিভাগের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার মাইনুল ইসলাম।
এছাড়াও, পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং নির্মাণকারী সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরাও
উপস্থিত ছিলেন।
কর্মকর্তারা বলেছেন, নতুন গ্রিড সাবস্টেশনটি ভোলার উপকূলীয় চরফ্যাশন এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটাবে বলে আশা করা হচ্ছে। যা লোডশেডিং এবং নিম্ন ভোল্টেজের দীর্ঘদিনের সমস্যা কমাতে সাহায্য করবে।
তারা আরও আশা প্রকাশ করেন, নির্ভরযোগ্য উচ্চ ভোল্টেজ সরবরাহ গ্রাহক এবং উদ্যোক্তাদের উপকৃত করবে, যা শিল্প প্রতিষ্ঠানের বৃদ্ধিতে উৎসাহ জোগাবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখবে।
তবে, সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছে যে এই প্রকল্পের সম্পূর্ণ সুফল পেতে বাসিন্দাদের আরও কিছুটা অপেক্ষা করতে হতে পারে।
জানা গেছে, সাবস্টেশন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অবহিত হওয়া সত্ত্বেও চরফ্যাশন পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড এখনও নতুন উচ্চ ভোল্টেজ সরবরাহ গ্রহণ ও বিতরণের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপন করেনি। ফলে, গ্রাহক পর্যায়ে সম্পূর্ণ পরিষেবা নিশ্চিত করতে বিলম্ব হতে পারে। নতুন গ্রিড সাবস্টেশনটি ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে, যা একটি চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থার অধীনে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের কাছে তা বিতরণ করবে। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো চরফ্যাশনজুড়ে নিরবচ্ছিন্ন এবং উন্নতমানের বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা।
সূত্রমতে, বাংলাদেশ সরকার ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। স্থানীয় প্রতিষ্ঠান রিভেরা পাওয়ার অ্যান্ড অটোমেশন ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড চীনা কোম্পানি এসপিটিডিই-এর সহযোগিতায় নির্মাণ কাজটি পরিচালনা করছে।
২০২৩ সালের মে মাসে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি-র সদর দপ্তরে দুই কোম্পানির মধ্যে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয় এবং এর পর পরই নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০ মে সাবস্টেশনটি সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত হয় এবং পরবর্তীতে পরীক্ষামূলক ভাবে চালু করা হয়।
কর্মকর্তারা জানান, চরফ্যাশনে বর্তমানে দুলাহাট সড়কে ও দক্ষিণ আইচায় দুটি ৩৩/১১ কেভি সাবস্টেশন রয়েছে। নতুন ২৩০/৩৩ কেভি সাবস্টেশনটি চালু হলে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ক্ষমতা উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। পূর্বে ৩৩ কেভিতে বিদ্যুৎ গ্রহণ এবং ১১ কেভিতে বিতরণ করা হতো, কিন্তু নতুন ব্যবস্থাটি অনেক বেশি ক্ষমতা সামলানোর জন্য ডিজাইন করা হয়েছে, যা সামগ্রিক দক্ষতা বৃদ্ধি করবে।
কর্মকর্তারা আরও জানান, উঁচু কাঠামোর ওপর নির্মিত এবং কন্ট্রোল প্যানেল, ব্রেকার ও আইসোলেটরসহ আধুনিক আমদানিকৃত সরঞ্জাম দ্বারা সজ্জিত এই নতুন স্থাপনাটি সিস্টেম লস ও ওভারলোডিং সমস্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে হ্রাস করে এই অঞ্চলে আরও স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এসএফ/এমএ