ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেছেন।
রোববার ঈদুল আজহার আগে শেষ কর্মদিবসে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।
এর আগে, সাবেক চেয়ারম্যান ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদের পদত্যাগের পর গত বছরের ২৩ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংক তাকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়।
এদিকে, ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের আন্দোলনের মুখে রোববার ব্যাংকটির পূর্বনির্ধারিত পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। রাজধানীর দিলকুশায় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সভাটি হওয়ার কথা ছিল।
সভায় যোগ দিতে এসে বাধ্যতামূলক ছুটিতে থাকা ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুক খানও আন্দোলনকারীদের বাধার মুখে প্রধান কার্যালয়ে প্রবেশ করতে পারেননি। ব্যাংকসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পর্ষদ সভায় তিনি পদত্যাগ করতে পারেন—এমন আলোচনা চলছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শে এর আগে ওমর ফারুক খানকে ৪৯ দিনের বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়। আগামী ৩১ মে তার ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটি দখলে নিয়ে নানা অনিয়ম জালিয়াতি করে। ২০২৪ সালের আগস্ট পরবর্তী ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে পুনর্গঠন করে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। শুরুতে সোনালী ও রূপালী ব্যাংকের সাবেক এমডি ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদকে চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়ে পাঁচ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে বিভিন্ন অনিয়মে সম্পৃক্ততার অভিযোগের মধ্যে ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ গত বছরের ১৭ জুলাই পদত্যাগে বাধ্য হন। বর্তমানে তিনি জেলে আছেন।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার আসার পর চলতি বছরের মার্চে ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদে একমাত্র জামায়াতপন্থি হিসেবে পরিচিত পরিচালক আব্দুল জলিলকে অপসারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। অন্যদিকে শুরু থেকে জুবাইদুর রহমানের নিয়োগ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন জাময়াতপন্থিরা। সচেতন গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে সাম্প্রতিক বিভিন্ন মানবন্ধন থেকে চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি করা হয়। একই সঙ্গে ব্যাংকটির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এম কামাল উদ্দীন জসীমের পদত্যাগ চেয়ে আসছেন আন্দোলনকারীরা।
এসআর