খাদ্য ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেছেন, খাদ্যে বিষক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। খাদ্য নিরাপত্তার ঘাটতি, অতিরিক্ত কীটনাশক ও রাসায়নিক ব্যবহারের কারণেই এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
শনিবার রাজধানীর কাজী নজরুল ইসলাম সড়কে অবস্থিত বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) কার্যালয়ে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের ফেলোশিপ কার্যক্রমের ইনসেপশন সেমিনার ও অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “যেখানে এক কেজি কীটনাশকের প্রয়োজন, সেখানে তিন কেজি ব্যবহার করা হচ্ছে। শাক-সবজি, ফলমূল ও মাছে অতিরিক্ত কীটনাশক প্রয়োগের কারণে খাদ্যের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। আমে এমন রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়, যা পাকতে দেরি করায়। পাবদা মাছ ও শসাতেও নিয়মিত স্প্রে করা হয়।”
তিনি বলেন, “খাদ্যে ভেজাল এখন বৈশ্বিক সমস্যা হলেও আমাদের দেশে তা আরও প্রকট। ২০ বছর আগেও এত ক্যান্সার দেখা যেত না। বর্তমানে খাদ্যদূষণের কারণে নানা রোগ বাড়ছে এবং চিকিৎসায় মানুষের বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে।”
খাদ্যপণ্য রপ্তানির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যপণ্য ও প্রসেসড ফুড রপ্তানির সুযোগ থাকলেও নিরাপদ খাদ্যের ঘাটতির কারণে বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত বাজারে প্রবেশ করতে পারছে না। এ জন্য আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএফএসএর চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। বিশেষ অতিথি ছিলেন খাদ্য সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা। স্বাগত বক্তব্য দেন বিএফএসএর সদস্য ড. মোহাম্মদ মোস্তফা ও ড. মোহাম্মদ শোয়েব।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রতি মাসে বাজারে অভিযান পরিচালনা করতে হবে, যাতে মানুষ জানতে পারে তারা কী খাচ্ছে। একই সঙ্গে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং কর্মকর্তাদের সততা ও দক্ষতার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খাদ্য সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা বলেন, “খাদ্যে ভেজাল এখন নীরব ঘাতক হিসেবে কাজ করছে। ভোক্তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং গবেষণাভিত্তিক কার্যক্রম জোরদার না করলে এ সমস্যা থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।”
সভাপতির বক্তব্যে মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, নিরাপদ খাদ্য খাতে গবেষণা বাড়াতে ভবিষ্যতে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, নিরাপদ খাদ্য খাতে গবেষণাকে উৎসাহিত করতে প্রথমবারের মতো “ফেলোশিপ কার্যক্রম-২০২৬” চালু করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। সাধারণ ফেলোশিপ–১ (এমএস/সমমান) ক্যাটাগরিতে ৩২৩টি আবেদন থেকে ২০ জন ফেলোকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে।
ফেলোশিপ নীতিমালায় খাদ্য অণুজীব বিজ্ঞান, খাদ্য রসায়ন, খাদ্য বিষবিদ্যা, খাদ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণ, খাদ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, উদীয়মান প্রযুক্তি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা ক্ষেত্র নির্ধারণ করা হয়েছে।
সাধারণ ফেলোশিপের আওতায় প্রত্যেক ফেলোকে এক বছরে মাসিক ৭ হাজার টাকা হারে মোট ৮৪ হাজার টাকা দেওয়া হবে। এছাড়া গবেষণা ব্যয় ও সুপারভাইজারের সম্মানীসহ প্রতিজনের পেছনে মোট ব্যয় হবে ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।
ভবিষ্যতে এমফিল ও পিএইচডি পর্যায়েও ফেলোশিপ কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানানো হয়।
এসআর