ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশনার ২৪ ঘণ্টা পরও বদলায়নি খুমেকের চিত্র
ময়লার স্তূপ, অপরিচ্ছন্ন শৌচাগার ও অব্যবস্থাপনায় ক্ষোভ রোগী-স্বজনদের
✎ অবজারভার প্রতিনিধি
⏲ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৩৩ পিএম
X

খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতাল পরিদর্শনে এসে পরিচ্ছন্নতা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাসহ বিভিন্ন বিষয়ে তিনি তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দিলেও ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও বাস্তব চিত্রে দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত বুধবার (২০ মে) আকস্মিক পরিদর্শনে এসে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, শৌচাগার ও আশপাশের পরিবেশ ঘুরে দেখেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় হাসপাতালের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং শৌচাগারগুলোকে “ব্যবহারের অনুপযোগী” বলে মন্তব্য করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার নির্দেশও দেন তিনি।

তবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে আগের দিনের একই চিত্র দেখতে পান। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতাল চত্বরে বিভিন্ন স্থানে খাবারের উচ্ছিষ্ট, পঁচা ভাত-তরকারি ও ময়লা-আবর্জনা পড়ে রয়েছে। কোথাও কোথাও আবর্জনার স্তূপ থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। ঝোঁপ ঝাঁড়ে মশার উপদ্রবও লক্ষ্য করা গেছে।

হাসপাতালের একটি পরিত্যক্ত টিউবওয়েলের পাশে আগের দিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী যেসব পঁচা খাবার অপসারণের নির্দেশ দিয়েছিলেন, বৃহস্পতিবারও সেখানে একই ভাবে আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

রোগীর স্বজন এম রহমান বলেন, 'হাসপাতালের যেখানে-সেখানে ময়লা পড়ে থাকায় মশার উপদ্রব বাড়ছে। এতে ডেঙ্গুসহ নানা রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। শৌচাগারের অবস্থা এতটাই খারাপ যে ব্যবহার করা কঠিন। মন্ত্রী নিজে দেখে পরিষ্কারের নির্দেশ দিলেও সেটি কার্যকর হয়নি।'

কয়েকজন রোগী জানান, মন্ত্রীর পরিদর্শনের পর তারা পরিবর্তনের আশা করেছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতির কোনো উন্নতি না হওয়ায় তারা হতাশ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৫০০ শয্যার জনবল কাঠামোতে পরিচালিত হলেও প্রতিদিন সেখানে রোগী ভর্তি থাকে প্রায় তিনগুন বেশি। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিতে গিয়ে হাসপাতালের সেবা ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এদিকে, হাসপাতালের পরিচালক ডা. কাজী মো. আইনুল ইসলামের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং আউটসোর্সিং নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগও তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রায়ই দীর্ঘ ছুটিতে থাকেন, ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হচ্ছে।

সম্প্রতি আউটসোর্সিং কর্মচারী নিয়োগের ভাইভা পরীক্ষায়ও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

অভিযোগকারীদের দাবি, নির্ধারিত তালিকার বাইরে কিছু প্রার্থীকে প্রভাব খাটিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

নাগরিক সংগঠন ‘আমরা বৃহত্তর খুলনাবাসী’র সাধারণ সম্পাদক সরদার আবু তাহের বলেন, 'স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালের নোংরা পরিবেশ ও অব্যবস্থাপনা দেখে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছিলেন। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তার কোনো বাস্তবায়ন হয়নি। সরকারি হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।'

তিনি বলেন, 'স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। কিন্তু খুমেকে রোগীদের দুর্ভোগ, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, দালাল চক্রের তৎপরতা ও সেবার মান নিয়ে মানুষের অসন্তোষ দিন দিন বাড়ছে।'

এসএম/এমএ


Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝