চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে বোগদাদ ও আইদি পরিবহনের বাস ভাংচুর এবং কর্মরত শ্রমিকদের উপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার সন্ধ্যায় পৌরসভাধীন বলাখাল বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
হামলায় ৩৩টি বাস ভাংচুর ও ৫০ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন বলে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১২ জন শ্রমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে পাঁচ জনকে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে স্থানীয়রা বলেন, হামলার সাথে তারা জড়িত নন। দুর্বৃত্তরা গাড়ি ভাংচুর করে তাদের উপর দোষ চাপিয়েছে।
আহত শ্রমিকরা হলেন- মো. হান্নান (২৮), আকরাম হোসেন (৩০), আমজাদ হোসেন (৩০), ইমান হোসেন (২৩), নাহিদ (২০), রেজাউল করিম (৩৬), আবুল হোসেন (৪১), হৃদয় হোসেন (২৫), মো. সুমন (৪৫), আকাশ (২০), শাহ আলম (২৬) ও রিদয় হোসেন (২৪)।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আহত কয়েকজন শ্রমিক ও তাদের দেখতে আসা শ্রমিকরা জানান, স্কুল মাঠে থাকা বাসগুলো দেখাশোনার জন্য আমরা সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ করে অন্ধকারের মধ্যে আমাদের উপর অতর্কিত হামলা, মারধর ও গাড়িগুলো ভাংচুর করা হয়।
বোগদাদের সুপারভাইজার ইউসুফ, ওমর ফারুক'সহ কয়েকজন শ্রমিক জানান, তাদের প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছেন।
জাবেদ নামের অপর এক শ্রমিক জানান, ৩৩টি গাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে।
শ্রমিকেরা বলেন, বিচার না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য কুমিল্লা-চাঁদপুর রোডে তাদের গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকবে।
এ বিষয়ে বলাখাল বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বেপারী সংবাদকর্মীদের জানান, এ দিন সন্ধ্যার পরে অন্ধকারের মধ্যে পরিবহন শ্রমিকদের উপরে অজ্ঞাত কে বা কারা হামলা করেছে, তা বলতে পারবোনা। বিষয়টি আমরা বুঝে ওঠার আগেই ঘটনাটি ঘটে যায়।
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল মান্নান জানান, খবর পেয়ে আমরা তাৎখনিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কাউকে পাইনি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শান্ত রয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বলাখাল বাজারে বাস স্টপেজের দাবিতে বোগদাদ ও আইদি পরিবহনের বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় ও এলাকাবাসী। বুধবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন তারা।
পরবর্তীতে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের অনুরোধে পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত বোগদাদ ও আইদি পরিবহনের বাসগুলো আটক রেখে অন্য সকল যানবাহন ছেড়ে দেওয়া হয়।
এর আগে একই দাবিতে গত ১৮ মে (সোমবার) সড়ক অবরোধ করেন ওই এলাকার শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা। ওই সময় বাস স্টপেজে রাখার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু পরবর্তীতে এ সিদ্ধান্ত না মানায় বুধবার দুপুরে আবারও সড়ক অবরোধ করে তারা।
এইচইউ/এমএ