রাজধানীর পল্লবী এলাকায় আট বছরের এক শিশুকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার সোহেল রানা (৩৪) ঘটনার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও কারাগারে পাঠানো হয়।
বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ-এর খাস কামরায় তিনি এ জবানবন্দি দেন।
এর আগে দুপুরে সোহেল রানা ও তার স্ত্রীকে আদালতে হাজির করে পল্লবী থানা-পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান সোহেল রানার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণের আবেদন করেন এবং স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান। পরে আদালত জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, শিশুটির লাশ গোপন করতে সোহেল রানা ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে মাথা বিচ্ছিন্ন করেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন তিনি।
গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পল্লবীতে নিহত শিশুটির প্রতিবেশীর বাড়ি থেকে প্রথমে মস্তকবিহীন দেহ উদ্ধার করা হয়। কিছুক্ষণ পর রঙের বালতি থেকে বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়। শিশুটি দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
উদ্ধারের সময় সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার দাঁড়ানো ছিলেন। তিনি জানান, তাঁর স্বামী সোহেল রানা শিশুটিকে বাথরুমে আটকে ধর্ষণ করার পর মেরে ফেলেন। পরে লাশ গায়েব করার জন্য ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে ফেলেন। কাঁধ থেকে দুই হাত বিচ্ছিন্ন করেন।
এরপর শিশুটির বাবা পুলিশকে খবর দেন এবং স্বপ্না আক্তারকে আটক করেন। পরে অভিযান চালিয়ে সোহেলকে আটক করে পুলিশ।
বুধবার ভোরে নিহত শিশুর বাবা পল্লবী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন।
মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, যে বাসা থেকে তাঁর মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, তার পাশের বাসায় থাকেন তাঁরা। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় তাঁর মেয়ে বাসা থেকে বের হলে তাকে পাশের বাসায় নিয়ে আটকে রাখে এবং ধর্ষণ করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
এদিকে দুপুরের পর সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় আদালত চত্বরে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে তাঁর শাস্তি দাবি করেন।
সোহেল রানাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হয়। আদালতে আনার সময় অনেকে উচ্চ স্বরে স্লোগান দিয়ে তাঁর সর্বোচ্চ শাস্তি ‘ফাঁসির’ দাবি জানান।
এসআর