দেশজুড়ে টানা ভারী বর্ষণের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে। বৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পানি জমে সবজি ক্ষেত নষ্ট হওয়া এবং পণ্যবাহী ট্রাক সময়মতো পৌঁছাতে না পারায় সৃষ্টি হয়েছে সরবরাহের ঘাটতি। আর এই জোগানের ঘাটতিকে কেন্দ্র করে সপ্তাহের ব্যবধানে চাল, ব্রয়লার মুরগি ও ডিমসহ অধিকাংশ সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। লাগামহীন এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষ। সরকারের বিপণন সংস্থা টিসিবিও তাদের বাজারদরের প্রতিবেদনে চাল, ব্রয়লার, বেগুন ও কাঁচামরিচসহ বেশ কিছু পণ্যের দাম বাড়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
নিম্ন ও মধ্যবিত্তের প্রোটিনের বড় উৎস ডিম ও ব্রয়লার মুরগির বাজার গত সপ্তাহের তুলনায় বেশ উত্তপ্ত। সপ্তাহের ব্যবধানে ফার্মের ব্রাউন (বাদামি) রঙের ডিমের দাম ডজনে ১০ টাকা বেড়ে ১৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১২০ থেকে ১২৫ টাকা। তবে বাজারে সাদা ব্রয়লার মুরগির ডিম কিছুটা কমে ১২৫ টাকা ডজন দরে পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা দরে, যা কোনো কোনো বাজারে সরবরাহ সংকটের কারণে ২০০ টাকা পর্যন্ত ঠেকেছে। এছাড়া সোনালি মুরগির কেজি ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। মাংসের বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে অপরিবর্তিত রয়েছে।
টানা বৃষ্টির প্রভাবে সবচেয়ে বেশি বৈরী পরিস্থিতি বিরাজ করছে সবজির বাজারে। গত সপ্তাহের তুলনায় সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কাঁচামরিচের দাম; যা এক সপ্তাহ আগে ৮০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি থাকলেও বর্তমানে তা বেড়ে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায় পৌঁছেছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি বেগুন ৯০ থেকে ১২০ টাকা, করলা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, পটল ও ঢ্যাঁড়শ ৭০ থেকে ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং শসা ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ৬০ টাকার লাউয়ের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়। তবে বাজারে প্রতি কেজি পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে পাওয়ায় কিছুটা স্বস্তি মিলছে। দেশি রসুনের দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ১০০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হলেও পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫ টাকা কমে ৩৫ থেকে ৪৫ টাকায় নেমে এসেছে।
সাধারণ ক্রেতাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে সপ্তাহের ব্যবধানে সরু ও মোটা দুই ধরনের চালের দামই বেড়েছে। বাজারে নাজিরশাইল বা মিনিকেটের মতো সরু চালের সর্বনিম্ন দাম ৭০ টাকা থেকে বেড়ে ৭২ টাকায় উঠেছে এবং তা বর্তমানে ৭২ থেকে ৮৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে মোটা চালের (স্বর্ণা বা চায়না ইরি) সর্বনিম্ন দাম ৪৮ টাকা থেকে বেড়ে ৫০ টাকা হয়েছে এবং তা বর্তমানে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে মাঝারি মানের পাইজাম বা লতা চালের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে, যা প্রতি কেজি ৫৫ থেকে ৬৮ টাকায় কেনা যাচ্ছে।
মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, চাষের কই, তেলাপিয়া, পাঙাশ ও মাঝারি আকারের রউইয়ের দাম কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বাকি মাছ কেনা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। বাজারে পাঙাশ মাছের কেজি ২০০ থেকে ২২০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কেজি পাবদা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, মাঝারি রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা ও বড় রুই ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে চিংড়ি ৬০০ থেকে ৯০০ টাকা, ট্যাংরা ও বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং শোল মাছ ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। ইলিশের বাজার বরাবরের মতোই চড়া; ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা এবং এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।
ভোক্তাদের অভিযোগ, সরবরাহের সমস্যার সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কারসাজি করে দাম আরও বাড়িয়ে দিচ্ছেন। তবে বিক্রেতাদের দাবি, আবহাওয়া ভালো হয়ে রাজধানীতে সবজিবাহী ট্রাকের চলাচল স্বাভাবিক হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পণ্যের দাম কমে আসবে।
এসএ