ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনী আচরণবিধির খসড়া আগামী ২১ জুলাই চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ওই দিন অনুষ্ঠেয় বিশেষ কমিশন সভায় এই আচরণবিধি চূড়ান্ত করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়েছে সাংবিধানিক সংস্থাটি। তবে আচরণবিধি চূড়ান্ত করার আগে রাজনৈতিক দল কিংবা অংশীজনদের সাথে নতুন করে কোনো সংলাপে বসবে না কমিশন। এ ধরনের আলোচনার জন্য জাতীয় সংসদই উপযুক্ত স্থান বলে মনে করছে ইসি।
নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমান মাছউদ এসব তথ্য নিশ্চিত করে জানান, খসড়া আচরণবিধির ওপর দলীয় ও ব্যক্তি পর্যায় থেকে মাত্র ১১টি লিখিত মতামত পাওয়া গেছে। সেগুলো পর্যালোচনা করে কমিশন কয়েকটি ছোটখাটো পরামর্শ অন্তর্ভুক্ত করেছে, তবে এতে বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলসহ সব দলই বর্তমানে সংসদীয় কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকায় তারা চাইলে সংসদেই এসব বিষয়ে আলোচনা করতে পারেন।
প্রস্তাবিত নতুন আচরণবিধিতে বেশ কিছু কঠোর নিয়ম যুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে আচরণবিধির গুরুতর লঙ্ঘনের দায়ে প্রার্থীদের তাৎক্ষণিক অযোগ্য ঘোষণার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে নতুন খসড়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে মোট ভোটারের ১ শতাংশের স্বাক্ষর সংগ্রহের বাধ্যবাধকতা বাতিলের বড় প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সাথে জামানতের অর্থ বাড়িয়ে পৌরসভার মেয়র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ১ লাখ টাকা এবং সিটি করপোরেশনের ক্ষেত্রে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা করার কথা বলা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থীদের জামানত ২০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হলেও নারী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে তা ৫ হাজার টাকাই বহাল থাকছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় নতুন করে ‘সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ’-কে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
পাশাপাশি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, দ্বৈত নাগরিকত্বধারী ব্যক্তি, ঋণখেলাপি এবং ঋণখেলাপির জামিনদারদের স্থানীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা থেকে বিরত রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রেও আনা হচ্ছে বড় পরিবর্তন, যার মধ্যে নির্বাচনী প্রচারণার সময়সীমা কমানো, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ এবং সাউন্ড সিস্টেম বা মাইক ব্যবহারের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
সর্বশেষ ২০১৬ সালে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধি সংশোধন করা হয়েছিল। ইসি সূত্রে জানা গেছে, আগামী অক্টোবর মাসের প্রথমার্ধে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে। সে লক্ষ্যে আগস্টের শেষ নাগাদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তপশিল ঘোষণা করা হতে পারে। ইতিমধ্যেই ব্যালট বাক্স ও নির্বাচনী কর্মীরা প্রস্তুত রয়েছে এবং সার্বিক ব্যয় নিয়ন্ত্রণে নির্বাচনের বাজেট কমানোর বিষয়েও কমিশনে আলোচনা চলছে।
এসএ