ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার একটি নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকে নেমে চার শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২০ মে) বিকেলে উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের গলানিয়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতরা হলেন—আরমান (২১), পিতা শুকুর আলী; ইমন হোসেন (৩৫), পিতা মোশাররফ হোসেন; হৃদয় (৩২), পিতা নান্নু মিয়া এবং মেহেদী হাসান (১৮), পিতা দুলাল মিয়া।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গলানিয়া গ্রামের আলী মিয়ার নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকে কয়েকজন শ্রমিক কাজ করছিলেন। দুপুরের দিকে ট্যাংকের ভেতরে থাকা দুই শ্রমিকের কোনো সাড়া না পেয়ে, তাঁদের উদ্ধারে আরও দুই শ্রমিক নিচে নামেন। এরপর তাঁরাও অচেতন হয়ে পড়েন। পরে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স–এ খবর দেওয়া হলে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।
বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স–এর ব্রাহ্মণবাড়িয়া কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক ফারুক আহমেদ জানান, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে নির্মাণাধীন ভবনের দেয়াল ভেঙে সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে প্রবেশ করে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে বিদ্যুতের লাইন নিয়ে কাজ চলছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তাঁদের মৃত্যু হতে পারে। তবে ট্যাংকের ভেতরে বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতিও দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
এদিকে নিহতদের স্বজনদের আহাজারিতে ঘটনাস্থলে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।
এসআর/আরএন