টেকেরহাট-গোপালগঞ্জ-ঘোনাপাড়া আঞ্চলিক মহাসড়কের বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দীর্ঘদিনের যানচলাচল প্রতিবন্ধকতা দূর করতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের উদ্যোগ নিয়েছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। ইতোমধ্যে সরকারি জায়গার সীমানা নির্ধারণ, মাইকিং এবং অবৈধ স্থাপনায় চিহ্নিতকরণের কাজ শুরু হয়েছে।
সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উচ্ছেদ কার্যক্রমের প্রথম ধাপে বৌলতলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সওজ বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের যৌথ সার্ভে টিম মহাসড়কের উভয় পাশের সরকারি জমির সীমানা নির্ধারণ করেছে। পরে মাইকিং করে অবৈধ দখলদারদের নিজ উদ্যোগে স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অবৈধ স্থাপনাগুলোতে লাল রঙ দিয়ে মার্কিং করেছেন।
সড়ক বিভাগ জানিয়েছে, উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চেয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের পর নির্ধারিত সময়ে বৌলতলী বাসস্ট্যান্ডে অভিযান শুরু হবে। পরে পর্যায়ক্রমে উলপুর, গান্দিয়াশুর, সাতপাড়, জলিরপাড়সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বাসস্ট্যান্ড এলাকাতেও একই ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে।
এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে আসে, মহাসড়কের বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন সড়কের ঢাল ও সরকারি জায়গা দখল করে দোকানপাট ও বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। অধিকাংশ বাসস্ট্যান্ডে ভ্যান, অটোরিকশা, ইজিবাইক, মাহেন্দ্র ও নসিমন রাখার নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় সেগুলো সড়কের ওপর অবস্থান নেয়। ফলে যানজট, দুর্ঘটনা ও যাত্রী ভোগান্তি নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মহাসড়ক সম্প্রসারণ করা হলেও বাসস্ট্যান্ডগুলোতে যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত অবস্থান এবং সড়কের ওপর বাজার বসার কারণে আগের মতোই ভোগান্তি রয়ে গেছে। বিশেষ করে বিকেলের দিকে কয়েকটি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সড়কের বড় অংশ অস্থায়ী বাজার ও যানবাহনের দখলে চলে যায়।
লোকাল বাসচালকরা জানান, সড়কের ওপর দোকান ও ছোট যানবাহনের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। তাদের মতে, বৌলতলী ও সাতপাড় এলাকায় পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
পথচারীরাও বলছেন, সড়কটি এখন আগের তুলনায় অনেক ব্যস্ত। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহন নিয়মিত এই সড়ক ব্যবহার করলেও বাসস্ট্যান্ড ব্যবস্থাপনা ও অবৈধ দখলমুক্ত না হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলছে না।
গোপালগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “মহাসড়কের সরকারি জমির সীমানা চিহ্নিত করা হয়েছে এবং অবৈধ স্থাপনা অপসারণে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের পর নির্ধারিত সময় অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, পর্যায়ক্রমে পুরো আঞ্চলিক মহাসড়ককে যানচলাচলের উপযোগী ও নিরাপদ করা হবে।
এমএইচএম/এসআর