মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালক ও মাইক্রোবাস চালকদের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়া এ সংঘর্ষে ৬ সাংবাদিকসহ অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৫ জনকে গুরুতর অবস্থায় মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সংঘর্ষের ঘটনায় শহরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য দুই পক্ষের নেতাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন। বৈঠকের পর উভয় পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান থেকে সরে গেলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
আহতরা হলেন— আমজাদ হোসেন বাচ্চু (৪৯), ইসমাইল মাহমুদ (৫৭), এহসানুল হক (৩৪), উজ্জ্বল কুমার দাশ (৪৪), নূর মোহাম্মদ সাগর (৩৩), মো. আলামিন (৩০), রাব্বি (২২), আউয়ুব আলী (৪০), বিশাল (২২), সওকত (৪৪), রাকিব (১৯), বিল্লাল মিয়া (৩২), চয়ন মিয়া (৩৮) ও আমির মিয়া (২৪)। বাকি দুইজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
গুরুতর আহতদের মধ্যে আমজাদ হোসেন বাচ্চু, বিশাল, আউয়ুব আলী, রাব্বি ও সওকতকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আহত সাংবাদিকরা হলেন— আমজাদ হোসেন বাচ্চু, ইসমাইল মাহমুদ, এহসান বিন মুজাহিদ, এস কে দাশ সুমন, নূর মোহাম্মদ সাগর ও মো. আলামিন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকালে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও একটি মাইক্রোবাসের মধ্যে সামান্য ধাক্কা লাগে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রথমে দুই চালকের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন জড়ো হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে শহরের কয়েকটি এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে কয়েকজন সাংবাদিকও হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসমিন বলেন, “সংঘর্ষে আহত ১৬ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫ জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের বেশিরভাগের মাথা ও শরীরে আঘাত রয়েছে।”
শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”
আরএ/এসআর