রাজশাহীর বাঘায় গোলাগুলিতে দু'জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন নিখোঁজ রয়েছেন। সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নের কালিদাসখালিতে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- কালিদাসখালির সিদ্দিক বেপারীর ছেলে স্বপন বেপারী (৪০) ও নিচপলাশীর শুকুর আলীর ছেলে জিয়াউল হক (৩৫)। তবে ঘটনাস্থলের আশপাশে রক্তপাতের আলামত থাকলেও গুলিবিদ্ধ স্বপনের সন্ধান মিলছে না।
ওই সময় জিয়াউল হক পদ্মা নদীতে মাছ শিকার করে বাড়ি ফিরছিলেন। এলাকাবাসীর চিৎকার শুনে এগিয়ে গেলে তিনিও গুলিতে আহত হন। জিয়াউলকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে গেছে, সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে কালিদাসখালি চরে সশস্ত্র একদল ডাকাত নৌকা বা ট্রলারযোগে আসছিল। এই সময় স্বপন নামের এক ব্যক্তি ডাকাতদের লক্ষ্য করে টর্চলাইটের আলো মারে। এতে ডাকাতরা ক্ষিপ্ত হয়ে স্বপনকে লক্ষ্য গুলি ছোড়ে। গুলিতে স্বপন ও জিয়াউল আহত হন। তবে আহত স্বপনকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ। পুলিশ জানায়, কিছু রক্তের আলামত পাওয়া গেছে।
স্বপনের বাবা সিদ্দিক বেপারী বলেন, রাত ১২টার দিকে দুইটা ট্রলারে ১৫ থেকে ১৬ জন আসেন। সে সময় তারা
এলোপাতারি গুলি ছুড়তে থাকে। গুলির শব্দে আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়। বাড়ির বাইরে এসে দেখি আমাকে তারা অকথ্য ভাষায় গালাগালি করছে। তারা বাড়ির সামনে আমার ছেলে স্বপনকে ধরে ফেলে। তাকেও গালাগালির একপর্যায়ে গুলি করে তাদের ট্রলারে তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তার আর খোঁজ পাওয়া যায়নি।
চক রাজাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের (কালিদাসখালি) সাবেক মেম্বর শহিদুল ইসলাম বলেন, 'এখানে বালুরঘাট রয়েছে। বালুরঘাটকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময় ডাকাত দলের হামলার ঘটনা ঘটে। গত রাতে আসলে কি ঘটনা ঘটেছিল সেটি এখনো ভালো ভাবে জানা যায়নি। তবে স্বপন ও জিয়াউর নামে দু'জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়। জিয়াউরকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তবে স্বপনকে পাওয়া যায়নি।'
স্বপনের বাবা সিদ্দিক বেপারী বলেন, 'গুলিবিদ্ধ আহত স্বপনকে ধরে নিয়ে গেছে ডাকাতরা। সে কোথায় আছে, কেমন আছে, কিভাবে আছে এ বিষয়ে কিছুই জানিনা। ঘটনাস্থলে পুলিশের লোকজন আছে। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আর আহত জিয়াউলকে স্বজনরা হাসপাতালে নিয়ে গেছে। এটা এলাকার মানুষ দেখেছে। আমার ছেলেকে উদ্ধারের জোর দাবি জানাই।'
বিষয়টি নিয়ে বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেরাজুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে তিনি অন্য গণমাধ্যমকে বলেন, 'রাতে এ রকম একটা ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে।'
তবে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার আলামিন ইসলাম রাব্বি বলেন, 'গুলিবিদ্ধ আহত বা নিহত এই ধরনের কোনো রোগীই আসেনি।'
এএইচ/এমএ