রাজশাহীর দুর্গাপুরে চার বছরের শিশু হুমায়রা জান্নাত হত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স আটকে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সময় সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে কয়েক দফা ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। প্রায় চার ঘণ্টা পর পরিস্থিতি শান্ত হলে শিশুটির মরদেহ দাফনের জন্য নেওয়া হয়।
সোমবার (১৮ মে) বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা সোয়া ৭টা পর্যন্ত দুর্গাপুর উপজেলার হাট কানপাড়া বাজার এলাকায় এ বিক্ষোভ চলে। ঘটনাস্থলে জেলা পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে শনিবার দুপুরে বাড়ি থেকে প্রায় ১৫০ মিটার দূরে একটি খেজুরগাছের নিচে হুমায়রার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২১ ঘণ্টা পর মরদেহটি পাওয়া যায়। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্ত শেষে রোববার দুপুরে মরদেহ বাড়িতে নেওয়া হচ্ছিল।
স্থানীয়রা জানান, বিকেল ৩টার দিকে হাট কানপাড়া বাজার এলাকায় মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স থামিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন এলাকাবাসী। তারা মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এতে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে বাড়ির পাশে অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল হুমায়রা। একপর্যায়ে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজন রাতভর আশপাশের এলাকা, পুকুর ও ঝোপঝাড়ে তল্লাশি চালিয়েও তার সন্ধান পাননি।
শনিবার সকালে হুমায়রার বাবা হাসিবুল ইসলাম শান্ত নিজের ফেসবুক আইডিতে মেয়ের সন্ধানদাতাকে এক লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেন। কয়েক ঘণ্টা পর বাড়ির পাশেই শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির পরিবার পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ তুলে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছে। তবে মামলায় এখনো কাউকে আসামি করা হয়নি।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া স্থানীয়দের অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ প্রশাসন যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে না। বিকেলে পুলিশ অবরোধকারীদের সড়ক ছেড়ে যেতে বললে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে কয়েক দফা ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।
পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপর মরদেহ দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ির পাশে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
আরএইচএফ/এসআর