সাতক্ষীরার শ্যামনগরে সুন্দরবনে যাওয়া এক কাঁকড়া আহরণকারী বনবিভাগের কর্মীদের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনায় বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার দুপুরে উপজেলার সোরা গ্রামের নিহত আমিনুর রহমানের মরদেহ আসার পর বিকেলে কয়েকশ বিক্ষুব্ধ জনতা ফরেস্ট অফিসে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় গ্রিল, থাই গ্লাস, দুটি এসি, চেয়ার-টেবিল ভেঙে ফেলা হয়। উত্তেজিত জনতার মারধরে বনবিভাগের পাঁচ কর্মী আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
হামলার সময় বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট অফিসের বিভিন্ন কক্ষ ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। হামলায় বনবিভাগের পাঁচ কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতরা হলেন— ফরেস্টার শেখ মো. ফারুক আহমেদ (৫৫), বনরক্ষী মো. মেজবাউল ইসলাম (৪৫), ফায়জুর রহমান (৪০), আজাদুল ইসলাম (৪২) ও স্বেচ্ছাসেবক এখলাছুর রহমান (২৭)।
এ বিষয়ে স্থানীয় গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম জানান, বনবিভাগের কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবন এলাকার মানুষকে জিম্মি করে হয়রানি করে আসছে। তিনি আমিনুর হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
শ্যামনগর থানার ওসি খালেদুর রহমান বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ মামলা করেনি।
উল্লেখ্য, তিন দিন আগে বনবিভাগের পাস (অনুমতিপত্র) নিয়ে দুটি নৌকাযোগে নিহত আমিনুর রহমান গাজীসহ চারজন বনজীবী সুন্দরবনে যান কাঁকড়া শিকারের জন্য। সোমবার সকাল থেকে খুলনা রেঞ্জের পাটকোস্টার ঝিল (অভয়ারণ্য) এলাকায় নৌকায় বসে তারা কাঁকড়া শিকার করছিলেন। একপর্যায়ে সকাল সাতটার দিকে পার্শ্ববর্তী টহলফাঁড়ির ইনচার্জ মোবারক হোসেনের নেতৃত্বে টহল টিমের সদস্যরা তাদের ডাক দেন। কিন্তু জেলেদের যেতে দেরি হওয়ায় টহল টিমের সদস্যরা এক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে গুলি আমিনুরের মাজায় লেগে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে দুপুর দেড়টার দিকে মরদেহ নিয়ে গাবুরা ইউনিয়নের সোরা গ্রামে পৌঁছালে সাধারণ মানুষ উত্তেজিত হয়ে বিকেলে বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট অফিসে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
এমজেডআর/আরএন