নওগাঁর আত্রাইয়ে নওগাঁ-নাটোর আঞ্চলিক মহাসড়কে যানবাহন আটকিয়ে গণডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গত রবিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে প্রায় ২টা পর্যন্ত উপজেলার থাওইপাড়ার দক্ষিণে ভাঙা ব্রিজ নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাত সাড়ে ১২টার দিকে ডাকাতদল আঞ্চলিক মহাসড়কের ওই স্থানে রাস্তার ওপর নৌকা ও ভাজা বিক্রেতার পরিত্যক্ত টেবিল দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এরপর ৪০ থেকে ৫০টি যানবাহনে গণডাকাতি চালানো হয়। এ সময় ডাকাতরা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে চালক ও যাত্রীদের জিম্মি করে সর্বস্ব লুটে নেয়।
ডাকাতদলের কবলে পড়া সৌদি আরব প্রবাসী উপজেলার জয়নাথপুর গ্রামের আশরাফুল ইসলামের বরাত দিয়ে তার পিতা সাইদুর রহমান বলেন, “আমার ছেলে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে নাটোর থেকে সিএনজিযোগে বাড়ি ফিরছিল। ওই স্থানে পৌঁছালে ডাকাতরা তাদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে একটি আইফোন, একটি মোবাইল ফোনসহ নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেয়।”
বিহারীপুর গ্রামের জাহাঙ্গীরের পুত্র ও মাইক্রোবাস চালক হাবিবুর রহমান বলেন, “আমি ঢাকা থেকে মাইক্রোবাস নিয়ে আসছিলাম। ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখে আমি ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ি। এক পর্যায়ে ডাকাতরা আমার গাড়ি ঘিরে ফেলে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে প্রায় ৪ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।”
একজন মাইক্রোবাস চালকের অভিযোগ, তিনি আক্রান্ত হওয়ার পরপরই ৯৯৯ নম্বরে আত্রাই থানায় ফোন দিলে পুলিশ তাকে জানায়, এটি তাদের এলাকা নয়। তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন আত্রাই থানার ওসির দায়িত্বে নিয়োজিত এসআই ইফতেখার। তিনি বলেন, “আমাদের থানায় ওই সময় ৯৯৯ নম্বরে কোনো ফোন আসেনি। বরং ঘটনার পরপরই বিষয়টি জানতে পেরে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান চালাই।”
এদিকে, আজ সোমবার সংবাদ পেয়ে নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়ব্রত পাল এবং জেলা ডিবি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এসআই ইফতেখার আরও জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তবে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মামলা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কেএইচ/আরএন