চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে উচ্চশিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজন করা হয়েছে “পাকিস্তান–বাংলাদেশ নলেজ করিডোর: এডুকেশন এক্সপো”।
সোমবার (১৮ মে) সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়–এর সমাজবিজ্ঞান অনুষদ অডিটোরিয়ামে এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। চবি অফিস ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের সহায়তায় আয়োজিত দিনব্যাপী এ আয়োজনে পাকিস্তানের বিভিন্ন শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা স্টল প্রদর্শন ও শিক্ষাবিষয়ক তথ্য উপস্থাপন করেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, পাকিস্তান সরকারের উদ্যোগে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ বিনা খরচে স্কলারশিপের সুযোগ রয়েছে, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পাকিস্তানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ বৃত্তিতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে। আয়োজনে সহযোগিতা করে চবি ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি) এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন চবির উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) কামাল উদ্দিন।
বক্তব্যে অধ্যাপক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ দুই দেশের মধ্যে উচ্চশিক্ষার সেতুবন্ধন তৈরি করবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের একটি প্রতিনিধি দল পাকিস্তান সফরে রয়েছে, যেখানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যও অন্তর্ভুক্ত।
অন্যদিকে অধ্যাপক কামাল উদ্দিন বলেন, গত বছরের আয়োজনের মাধ্যমে অনেক শিক্ষার্থী পাকিস্তানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপ পেয়েছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক ফলাফল। তিনি এ উদ্যোগকে শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনার মুহাম্মদ ওয়াসিফ এবং পাকিস্তান হায়ার এডুকেশন কমিশনের হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রজেক্ট ডিরেক্টর জেহানজেব খান। সভাপতিত্ব ও পরিচালনায় ছিলেন চবি অফিস ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক, হল প্রভোস্ট, চাকসু ও হল সংসদের প্রতিনিধিসহ পাকিস্তানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি ও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী।
বক্তারা বলেন, এই “নলেজ করিডোর” কেবল উচ্চশিক্ষার সুযোগই নয়, বরং দুই দেশের মধ্যে যৌথ গবেষণা, শিক্ষক–শিক্ষার্থী বিনিময় এবং প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করবে। বিশেষ করে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, চিকিৎসা ও ব্যবসা শিক্ষায় এর দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয় এবং ফিতা কেটে এডুকেশন এক্সপোর উদ্বোধন করেন অতিথিবৃন্দ। দিনব্যাপী আয়োজিত এই মেলায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতিনিধিরা ভর্তি যোগ্যতা, স্কলারশিপ, ক্রেডিট ট্রান্সফার এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান বিষয়ে সরাসরি পরামর্শ প্রদান করেন।
এমএ/আরএন