খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) থেকে চুরি হওয়া শিক্ষক হাজিরায় ব্যবহৃত ডিজিটাল ফেস ডিটেকশন হাজিরা মেশিন ১২ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় কলেজের এমএলএসএস কাউসারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কলেজ সূত্র জানায়, রোববার সন্ধ্যায় নৈশপ্রহরীরা দায়িত্ব পালনে এসে নিচতলায় স্থাপিত ডিজিটাল হাজিরা মেশিনটি দেখতে না পেয়ে বিষয়টি অধ্যক্ষকে জানান।
সোমবার সকালে অধ্যক্ষের কক্ষে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এমএলএসএস কাউসার বিকেল ৩টা ৫ মিনিটে কক্ষে প্রবেশ করেন এবং চার মিনিট পর মেশিনটি হাতে নিয়ে বের হয়ে যান।
ঘটনার পর কলেজজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করলে কাউসার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং মেশিনটি ফেরত দেন।
এ ঘটনায় একজন শিক্ষক ও বিভাগীয় প্রধানের সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে বলে কলেজ সূত্র জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
ঘটনা তদন্তে উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আমানুল হাসানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত কর্মচারী কাউসারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
খুলনা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. গোলাম মাসুদ বলেন, “ঘটনাটিকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। তদন্তের স্বার্থে এখনই বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় তদন্ত চলছে। খুব শিগগিরই বিস্তারিত জানানো হবে।”
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্রের দাবি, শিক্ষক হাজিরায় ব্যবহৃত ডিজিটাল মেশিনটি কিছু চিকিৎসকের জন্য অসুবিধার কারণ হয়ে উঠেছিল। অভিযোগ রয়েছে, তাদের কেউ কেউ বেসরকারি হাসপাতালে বেশি সময় দেওয়ায় নিয়মিত হাজিরা নিশ্চিত করতে সমস্যায় পড়ছিলেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এসএমএস/এসআর