Monday | 1 June 2026 | Reg No- 06
Epaper | English
   
English | Monday | 1 June 2026 | Epaper
BREAKING: প্রবীণ আ.লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন      পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ      ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে গ্রাহক-পুলিশ সংঘর্ষ      ইরানের সামরিক স্থাপনায় হামলার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের      মরণোত্তর জাতিসংঘ পদক পাচ্ছেন ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী      বাজেটের আগে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি এক ধরনের ধোঁকাবাজি: জামায়াত আমির      মিয়ানমারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ৫৫      

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান থেকে সেগুনগাছ চুরি

প্রকাশ: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ৫:০৮ পিএম   (ভিজিট : ৩৩)

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার গভীর অরণ্যে অবস্থিত সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান থেকে আবারও সেগুনগাছ কেটে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। বন বিভাগের চোখ ফাঁকি দিয়ে উদ্যানের ভেতর থেকে গত দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই সংঘবদ্ধ একটি চক্র রাতের আঁধারে প্রায় ২০ থেকে ২৫টি গাছ কেটে নিয়ে যায়।

রোববার (১৭ মে) সরেজমিনে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের ডুমুরতলা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, শতবর্ষী বিশাল দুটি সেগুনগাছের শিকড় পড়ে আছে। গাছ কেটে নিয়ে গেলেও পড়ে আছে মোটা গোড়া আর ছড়িয়ে থাকা করাতের গুঁড়া। সেখান থেকে আরও পূর্ব-দক্ষিণ দিকে এগোলে একই আকারের আরও দুটি গাছ কাটা অবস্থায় দেখা যায়। বনভূমির প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা ঘুরে পাওয়া যায় আরও অসংখ্য কাটা গাছের গোড়া, যেগুলো যেন নীরবে সাক্ষ্য দিচ্ছে বন উজাড়ের।

বনের ভেতরে কথা হয় স্থানীয় এক ভিলেজারের সঙ্গে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রায় ৪৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি বলেন, পুরো বন ঘুরে দেখলে অন্তত ২৫ থেকে ৩০টি কাটা গাছ পাওয়া যাবে। শুধু দুই-তিন দিনেই গাছগুলো কাটা হয়েছে। আগেও অনেক গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। এখনও পুরোনো শিকড় পড়ে আছে ফাঁকে ফাঁকে।

প্রায় ২৪৩ হেক্টর আয়তনের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষিত বনাঞ্চল। ২০০৫ সালে এটিকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়। ভারতের ত্রিপুরা সীমান্তঘেঁষা এই বনে রয়েছে সাতটি প্রাকৃতিক ছড়া, যেখান থেকে উদ্যানটির নামকরণ করা হয়েছে। এখানে বিরল প্রজাতির উল্লুক, মুখপোড়া হনুমান, মায়া হরিণ, বনরুইসহ নানা প্রাণীর আবাস। শতবর্ষী সেগুন, গর্জন, চাপালিশ, করই ও নানা প্রজাতির ঔষধি গাছ বনটিকে দিয়েছে অনন্য সৌন্দর্য।

কিন্তু বছরের পর বছর অবৈধ গাছ কাটার কারণে এই বন হারাচ্ছে তার স্বাভাবিক রূপ ও পরিবেশগত ভারসাম্য।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গাছ চুরির পেছনে দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয় একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই চক্রে শুধু কাঠচোররাই নয়, বন বিভাগের অসাধু কিছু কর্মচারী, প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যেরও যোগসাজশ রয়েছে। একাধিক বাসিন্দা বলেন, “সবাই মিলে বনটাকে শেষ করে দিচ্ছে। না হলে এত বড় বড় গাছ কেটে নেওয়া সম্ভব হতো না।”

পরিবেশবাদী নেতা তোফাজ্জল সোহেল বলেন, “একটি বড় গাছ কাটা মানে শুধু একটি গাছ হারানো নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অসংখ্য প্রাণীর বাসস্থান, পাখির আশ্রয়, মাটির আর্দ্রতা ও বনজ পরিবেশের ভারসাম্য। এভাবে গাছ কাটা চলতে থাকলে সাতছড়ির জীববৈচিত্র্য ভয়াবহ হুমকির মুখে পড়বে।”

তিনি আরও বলেন, “বন ধ্বংস হলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আরও তীব্র হবে। কমে যাবে বৃষ্টিপাত, বাড়বে ভূমিক্ষয় এবং বিলুপ্ত হবে অনেক বন্যপ্রাণী।”

এর আগেও সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে একই ধরনের গাছ চুরির ঘটনা ঘটেছিল। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর দৃশ্যমান কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে বনখেকো চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

এ বিষয়ে সাতছড়ি রেঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, “দুটি সেগুনগাছ চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে। পুলিশ কিছুটা শনাক্ত করতে পেরেছে, কারা জড়িত থাকতে পারে।”

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবুল কালাম বলেন, তিনি সরকারি প্রশিক্ষণে রয়েছেন। বিষয়টি এখনো তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরী বলেন, বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেএ/আরএন




LATEST NEWS
MOST READ
আরও পড়ুন
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000.
Phone: PABX- 41053001-06; Online: 41053014; Advertisement: 41053012.
E-mail: district@dailyobserverbd.com, news©dailyobserverbd.com, advertisement©dailyobserverbd.com, For Online Edition: mailobserverbd©gmail.com
🔝
close