ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
সাতছ‌ড়ি‌ জাতীয় উদ‌্যান থেকে সেগুন গাছ চু‌রি
✎ অবজারভার সংবাদদাতা
⏲ প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ৩:৫৩ পিএম
X

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার গভীর অরণ্যে অবস্থিত সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান থেকে আবারও সেগুনগাছ কেটে নিয়ে গেছে দুর্বত্তরা। বন বিভাগের চোখ ফাঁকি দিয়ে উদ্যানের ভেতর থেকে গত দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই সংঘবদ্ধ একটি চক্র রাতের আঁধারে প্রায় ২০ থেকে ২৫টি এসব গাছ কেটে নিয়ে যায়।

রোববার সরেজমিনে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের ডুমুরতলা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, শতবর্ষী বিশাল দুটি সেগুন গাছের শিকড়। গাছ কেটে নিয়ে গেলেও পড়ে আছে মোটা গোড়া আর ছড়িয়ে থাকা কাঠের গুঁড়া। সেখান থেকে আরও পূর্ব-দক্ষিণ দিকে এগিয়ে গেলে একই আকারের আরও দুটি গাছ কাটা অবস্থায় দেখা যায়। বনভূমির প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা ঘুরে পাওয়া যায় আরও অসংখ্য কাটা গাছের গোড়া, যেগুলো যেন নীরবে সাক্ষ্য দিচ্ছে বন উজাড়ের।

বনের ভেতরে কথা হয় স্থানীয় এক ভিলেজারের সঙ্গে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রায় ৪৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি বলেন, 'পুরো বন ঘুরে দেখলে অন্তত ২৫ থেকে ৩০টা কাটা গাছ পাওয়া যাবে। শুধু দুই-তিন দিনেই কাটা হয়েছে। আগেও অনেক গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। এখনও পুরোনো শিকড় পড়ে আছে ফাঁকে ফাঁকে।'

প্রায় ২৪৩ হেক্টর আয়তনের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষিত বনাঞ্চল। ২০০৫ সালে এটিকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়। ভারতের ত্রিপুরা সীমান্তঘেঁষা এই বনে রয়েছে সাতটি প্রাকৃতিক ছড়া, যেখান থেকে উদ্যানটির নামকরণ। এখানে বিরল প্রজাতির উল্লুক, মুখপোড়া হনুমান, মায়া হরিণ, বনরুইসহ নানা প্রাণীর আবাস। শতবর্ষী সেগুন, গর্জন, চাপালিশ, করই ও নানা প্রজাতির ঔষধি গাছ বনটিকে দিয়েছে অনন্য সৌন্দর্য।

কিন্তু বছরের পর বছর অবৈধ গাছ কাটার কারণে এই বন হারাচ্ছে তার স্বাভাবিক রূপ ও পরিবেশগত ভারসাম্য।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গাছ চুরির পেছনে দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয় একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই চক্রে শুধু কাঠ চোররাই নয়, বন বিভাগের অসাধু কিছু কর্মচারী, প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যেরও যোগসাজশ রয়েছে এ গাছ চুরি পেছনে। 

একাধিক বাসিন্দা বলেন, সবাই মিলে মিশেই বনটাকে শেষ করে দিচ্ছে। না হলে এত বড় বড় গাছ কেটে নেওয়া সম্ভব না।

পরিবেশবাদী নেতা তোফাজ্জল সোহেল বলেন, 'একটি বড় গাছ কাটা মানে শুধু একটি গাছ হারানো নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অসংখ্য প্রাণীর বাসস্থান, পাখির আশ্রয়, মাটির আর্দ্রতা ও বনজ পরিবেশের ভারসাম্য। এভাবে গাছ কাটা চলতে থাকলে সাতছড়ির জীব-বৈচিত্র্য ভয়াবহ হুমকির মুখে পড়বে।'

তিনি বলেন, 'বন ধ্বংস হলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আরও তীব্র হবে। কমে যাবে বৃষ্টিপাত, বাড়বে ভূমিক্ষয় এবং বিলুপ্ত হবে অনেক বন্যপ্রাণী।'

এর আগেও সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে একই ধরনের গাছ চুরির ঘটনা ঘটেছিল। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর দৃশ্যমান কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে বনখেকো চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

এ বিষয়ে সাতছড়ি রেঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, 'দুটি সেগুন গাছ চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে। পুলিশ কিছুটা শনাক্ত করতে পেরেছে কারা জড়িত থাকতে পারে।'

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবুল কালাম বলেন, 'আমি সরকারি প্রশিক্ষণে রয়েছি। বিষয়টি এখনো আমাকে আনুষ্ঠানিক ভাবে জানানো হয়নি। তবে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরী বলেন, 'বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

জেএ/এমএ


Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝