ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
রাজশাহীতে কোরবানির হাট কাঁপাতে আসছে ‘সিমবা’ ও ‘লালু’
✎ অবজারভার প্রতিনিধি
⏲ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ৭:৪১ পিএম
X

কোরবানিকে সামনে রেখে রাজশাহীর গরু খামারি আনোয়ার হোসেন আনার বিভিন্ন জাতের গরু প্রস্তুত করেছেন। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার কেজি ওজনের একটি ব্রাহমা জাতের গরু এবং সমপরিমাণ ওজনের একটি উলবারী জাতের গরু পালন করে তিনি সাড়া ফেলেছেন। গরু দুটির নাম রাখা হয়েছে “সিমবা” ও “লালু”। খামার মালিকের দাবি, রাজশাহীতে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ও আকর্ষণীয় গরুর মধ্যে এগুলো অন্যতম।

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে রাজশাহীর খামারগুলোতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন গরু খামারিরা। মহানগরীর খড়খড়ি বাজার সংলগ্ন বামন শিখর এলাকায় ওয়ালী ক্যাটল ফার্মের মালিক আনোয়ার হোসেন আনার শখের বসে ২০১৭ সালে গরু মোটাতাজাকরণ শুরু করেন। ধীরে ধীরে সফলতা পাওয়ায় তিনি খামারটি সম্প্রসারণ করেন। বর্তমানে তার খামারে মোট ৫২টি গরু রয়েছে, যার মধ্যে ৩২টি কোরবানিযোগ্য গরু প্রস্তুত আছে। শাহীওয়াল, ব্রাহমা, উলবারী ও ফিজিয়ানসহ বিভিন্ন জাতের গরু রয়েছে এই খামারে।

এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত দুটি গরু হলো প্রায় ১ হাজার কেজি বা ২৫ মণ ওজনের একটি ব্রাহমা জাতের গরু, যার নাম ‘সিমবা’, এবং সমপরিমাণ ওজনের উলবারী জাতের আরেকটি গরু, যার নাম ‘লালু’। বিশাল দেহ, উচ্চতা, চোখের গঠন এবং শিংয়ের বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে গরু দুটি ইতোমধ্যেই সবার দৃষ্টি কেড়েছে। খামার মালিকের দাবি, রাজশাহীতে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ও আকর্ষণীয় গরুর মধ্যে এগুলো অন্যতম। এবারের কোরবানির হাটে এই দুই গরু বিশেষ চাহিদা তৈরি করবে বলে আশা করছেন তিনি। দেশীয় ঘাস ও দানাদার খাবারে সম্পূর্ণভাবে গরুগুলোকে মোটাতাজা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

খামার মালিক আনোয়ার হোসেন আনার জানান, গরুর খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার খরচও অনেক বেড়েছে। তবে বড় দুটি গরুর প্রতিটির দাম প্রায় ৭ লাখ টাকার বেশি পাওয়ার আশা করছেন তিনি। ঢাকার বাজারে বিক্রি হলে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত দাম উঠতে পারে বলেও তিনি মনে করেন। তবে স্থানীয় বাজার বা খামার থেকেই বিক্রির বিষয়ে আগ্রহ বেশি বলে জানান এই খামার মালিক।

তিনি আরও বলেন, রাজশাহী অঞ্চলে বড় গরু বিক্রি করতে কিছুটা অসুবিধা হয়। গত কোরবানিতে ৩৫টি গরু ছিল, সেগুলো বিক্রি করতে সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। তবে ঈদের কয়েকদিন আগে ঢাকার একজন ক্রেতা খামারে এসে দেখে পছন্দ করে ২৯টি গরু নিয়ে গিয়েছিলেন। এবারও এমন ক্রেতা পেলে তাদের কাছেই বিক্রির আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। এছাড়াও এবার গরুর দাম এখনো ব্যবসায়ীদের অনুকূলে নয় বলে জানান।

খামারের কর্মচারীরা জানান, প্রতিদিন ঘাস ও দানাদার খাবারের মাধ্যমে গরুগুলোর পরিচর্যা করা হয়। প্রতিটি গরুর পেছনে দৈনিক প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা খরচ হয়। কোনো ধরনের ভ্যাকসিন বা বিশেষ ফিড ছাড়াই গরুগুলো বড় করা হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন। এতে খামারের গরুর রোগবালাই তুলনামূলক কম হয়। সময়মতো ভ্যাকসিন দেওয়া হয় বলেও তারা জানান। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা মাঝে মাঝে খোঁজখবর নেন।

এদিকে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ পশুর হাট রাজশাহীর সিটি হাটে এখনো পুরোপুরি জমে ওঠেনি কেনাবেচা। ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকায় বুধবারের হাটে গরুর দামে কিছুটা তারতম্য দেখা গেছে বলে জানান ক্রেতারা। কেউ বলছেন ছোট গরুর দাম বেশি, আবার বড় গরুর দাম তুলনামূলক কম।

বৃহৎ এই হাটে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যাপারী ও ক্রেতাদের আগমন ঘটে। তবে এবার ঈদের আর মাত্র ১৩ থেকে ১৪ দিন বাকি থাকলেও এখনো হাট পুরোপুরি জমে ওঠেনি। এতে অনেক ব্যাপারী লোকসানের শঙ্কা করছেন। তবে আগামী সপ্তাহে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়ে হাট আবারও জমজমাট হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে হাটের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন তারা।

রাজশাহী সিটি হাটের ইজারাদার নাজির হোসেন বলেন, দেশের অন্যতম সুনামধন্য পশুর হাট হিসেবে রাজশাহীর সিটি হাটের আলাদা পরিচিতি রয়েছে। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ক্রেতা, বিক্রেতা ও ব্যাপারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আতোয়ার রহমান জানান, জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদার তুলনায় এক লাখেরও বেশি কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি হাটগুলোতে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে ভেটেরিনারি টিম গঠন করা হবে বলেও তিনি জানান।

আরএইচ/আরএন


Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝