ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা, আখাউড়া ও বিজয়নগর উপজেলায় প্রতি বছরই ব্যাপক পরিমাণে লিচুর আবাদ হয়। এর মধ্যে বিজয়নগর ‘ফলের রাজ্য’ হিসেবে পরিচিত। এ বছরও জেলায় ভালো লিচু উৎপাদনের আশা করছেন চাষিরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় লাভের আশায় দিন গুনছেন তারা।
বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ—এই দুই মাসকে একত্রে ‘মধুমাস’ বলা হলেও জ্যৈষ্ঠ মাসেই মূলত আম, জাম, কাঁঠাল ও লিচুসহ বিভিন্ন রসালো ফল বাজারে আসে। তবে এবার গ্রীষ্মের শুরুতেই এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী অপরিপক্ব লিচু বাজারজাত করতে শুরু করেছে। ফলে মৌসুম শুরুর আগেই বাজারে উঠে এসেছে আগাম লিচু।
বুধবার (১৩ মে) বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, খাঁচাভর্তি লিচু প্রতি শ’ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নতুন ফলের আকর্ষণে ক্রেতাদের ভিড় থাকলেও অনেকেই অভিযোগ করছেন, দেখতে টসটসে লাল হলেও অধিকাংশ লিচুই টক, রসহীন এবং পুরোপুরি পরিপক্ব নয়।
একাধিক ফল বিক্রেতা জানান, “এখনো আসল মৌসুম শুরু হয়নি। বাজারে যেগুলো আসছে, বেশির ভাগই আগাম তোলা। দাম বেশি, কিন্তু স্বাদ কম। তারপরও নতুন ফল দেখে মানুষ কিনছে।”
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মোস্তফা ইমরান হোসেন বলেন, “ডিসি অফিসের একটি মিটিংয়ে তিনি লিচু খেয়েছেন, কিন্তু এর প্রকৃত স্বাদ পাননি। প্রকৃত মৌসুমে গাছে পাকা লিচু স্বাভাবিকভাবেই রসালো ও সুমিষ্ট হয়। সময়ের আগে ফল সংগ্রহ করলে এর গুণগত মান নষ্ট হয়।”
তিনি আরও বলেন, “চাষিরা যদি লিচুতে কীটনাশক প্রয়োগ করে থাকেন, তবে নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার আগে তা খাওয়া ঠিক নয়। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকতে পারে। এছাড়া লিচুর পাকা রং আনতে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বিভিন্ন কেমিক্যাল ব্যবহার করতে পারে, যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।”
এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে চাষিদের এ ধরনের কার্যক্রম থেকে নিরুৎসাহিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
বিজয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুমন ভূঁইয়া বলেন, “অপরিপক্ব ও কেমিক্যাল ব্যবহার করা লিচু স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে পেটের সমস্যা, অ্যালার্জিসহ নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই মৌসুম শুরুর আগে লিচু কেনা ও খাওয়ার ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”
এসআর/আরএন