ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের মাইনুদ্দিন মাছঘাট এলাকায় অবৈধ ড্রেজার মেশিন বসিয়ে নদীর তীরের মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এতে মেঘনা নদীর পাড়, স্থানীয় বসতবাড়ি এবং বিস্তীর্ণ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র নদীর তীর ঘেঁষে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন ও বিক্রি করছে। ড্রেজারের পাইপ বসানো হয়েছে নদীর একেবারে কাছাকাছি এলাকায়, যার অল্প দূরত্বেই রয়েছে কয়েক লক্ষ গাছপালা সমৃদ্ধ একটি ম্যানগ্রোভ বন। এতে পরিবেশ বিপর্যয় ও নদীভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাটি পরিবহনের জন্য অবৈধভাবে রাস্তার ওপর দিয়ে পাইপ বসানো হয়েছে, যার কারণে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে এবং জনসাধারণের চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয়দের একজন বলেন, “এভাবে মাটি কাটা চলতে থাকলে নদীর তীর দুর্বল হয়ে বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিতে পারে। আমরা খুব আতঙ্কে আছি।”
আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “ম্যানগ্রোভ বনটি ধ্বংস হয়ে গেলে পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি হবে। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগকারী আব্দুর রহিম হাজারী জানান, তিনি এলাকার স্বার্থে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “দ্রুত এই অবৈধ ড্রেজার বন্ধ না করা হলে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।”
এদিকে শশীভূষণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় নদীভাঙনের আতঙ্ক, পরিবেশ ধ্বংস ও জনদুর্ভোগ বেড়ে যাওয়ায় চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয়রা। তারা দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এসএফ/এসআর