ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে তথ্য সংগ্রহে গিয়ে র্যাবের তিন গোয়েন্দা সদস্যের ওপর হামলার ঘটনায় এক নারীসহ পাঁচজনকে আটক করেছে র্যাব-৯।
সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের খাগাতোয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের দক্ষিণ পৈরতলায় র্যাব-৯ ক্রাইম প্রিভেনশন কোম্পানির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ক্যাম্প কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. নূরন্নবী।
আটকরা হলেন— খাগাতোয়া গ্রামের মৃত গোলাম ওয়াহেদের ছেলে আব্দুল কাদির (৬২), নয়ন মিয়ার ছেলে মো. রাহিম আহমেদ (২০), মুসলেম মিয়ার ছেলে আব্দুর রহমান ওরফে অপু মিয়া (১৯), হুমায়ুন কবিরের ছেলে নুর আলম ওরফে নুরনবী (১৯) এবং জামাল মিয়ার স্ত্রী ছানুয়ারা বেগম (৪৮)।
র্যাব জানায়, সোমবার বিকেলে জেলার বাঞ্ছারামপুর এলাকায় তথ্য সংগ্রহ শেষে তিন গোয়েন্দা সদস্য মোটরসাইকেলে ফিরছিলেন। পথে নবীনগরের খাগাতোয়া গ্রামে পৌঁছালে চিহ্নিত ডাকাত শফিক বাহিনীর সদস্যরা তাদের গতিরোধ করে। পরে তাদের জিম্মি করে একটি আস্তানায় নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়। এ সময় এক সদস্যের মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়।
খবর পেয়ে র্যাবের অন্য সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
ঘটনার পর অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে রাতভর সাঁড়াশি অভিযান চালায় র্যাব। অভিযানের সময় শফিক ডাকাত পালিয়ে গেলেও হামলায় জড়িত অভিযোগে এক নারীসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়। আটক আব্দুল কাদির হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী বলে দাবি করেছে র্যাব। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে কয়েকটি দেশীয় অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খাগাতোয়া গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেন, আহত র্যাব সদস্যদের চলাফেরা সন্দেহজনক ছিল এবং তারা প্রায়ই খাগাতোয়া গ্রাম ও জীবনগঞ্জ বাজার এলাকায় ঘোরাফেরা করতেন। বিষয়টি তদন্তেরও দাবি জানান তারা।
এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
এমএসপি/ এসআর