জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
সোমবার (১১ মে) তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন এবং ক্যাম্পাস ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনকালে ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন তাঁর সঙ্গে ছিলেন। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ থেকে মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
উপাচার্যের অফিস কক্ষসংলগ্ন কনফারেন্স কক্ষে উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম মন্ত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অবহিত করেন। এ সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাস, একাডেমিক কার্যক্রম ও অবকাঠামোগত বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।
কনফারেন্স কক্ষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, “জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন এক বিস্ময়কর প্রতিভার অধিকারী। তিনি একাডেমিক লেখাপড়ায় তেমন ভালো না হলেও বাংলা সাহিত্যের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে অনবদ্য রচনা করেছেন। তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার কবি। একদিকে তিনি গজল, হামদ ও নাত রচনা করেছেন, অন্যদিকে শ্যামাসংগীত, কীর্তন ও ভজনও রচনা করেছেন। এই মহান কবির পদচারণায় ধন্য ত্রিশালে তাঁর নামে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টিকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে, যেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে শিক্ষার্থীরা এখানে পড়তে আসে এবং এটি পর্যটন এলাকা হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হয়। এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু নতুন বিভাগ খোলা প্রয়োজন, বিশেষ করে বিভিন্ন ভাষা শিক্ষার জন্য একটি ভাষা ইনস্টিটিউট।”
মন্ত্রী আরও বলেন, “সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্বোধন করলেও পরবর্তীতে সেই উদ্বোধনস্থল বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার বাইরে রাখা হয়েছে। তাঁর সেই অবদান বাইরে রাখলেই কি তাঁকে মুছে ফেলা যাবে? সূর্যের আলো কি হাত দিয়ে ঢেকে রাখা সম্ভব? কখনোই না।”
ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন বলেন, “ত্রিশালে জাতীয়ভাবে নজরুল জন্মজয়ন্তী উদযাপনের বিষয়টি সংসদে উত্থাপনের পর থেকে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সার্বিক সহযোগিতা পেয়েছি। এজন্য তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। ত্রিশালে পাঁচ দিনব্যাপী নজরুল জয়ন্তীর যে আয়োজন করা হচ্ছে, তা ত্রিশালের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠান হতে যাচ্ছে। এই অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান উপস্থিত থাকবেন। তাঁকে তাঁর মায়ের প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে আসব, ইনশাআল্লাহ। এছাড়াও অনুষ্ঠানের প্রতিদিন সরকারের সিনিয়র মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা উপস্থিত থাকবেন। ত্রিশালে কবি, সাহিত্যিক ও শিল্পীদের এক মহামিলনমেলা অনুষ্ঠিত হবে।”
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. সাখাওয়াত হোসেন সরকার, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. মো. মিজানুর রহমানসহ বিভাগীয় প্রধান, দপ্তরপ্রধান, প্রক্টর, প্রভোস্ট, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, শিক্ষার্থী এবং ত্রিশাল ও ময়মনসিংহের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, মন্ত্রী কবি নজরুলের ১২৭তম জন্মজয়ন্তীর জাতীয় অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রস্তুতি সভায় অংশ নিতে ময়মনসিংহে যান। সভা শেষে তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করেন।
টিএ/আরএন