ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় সরকারি খাস জমি ও খাল দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে রাজ্জাক নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের কাজে বাধা, হুমকি ও অশোভন আচরণের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
উপজেলার টবগী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মুন্সিরহাট-ফকিরহাট সড়কের পাশে চৌকিদার বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের পাশের সরকারি খাস জমি ও খালের অংশ ভরাট করে একটি পাকা ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় খাস জমি ও খালের অংশ দখল করে কয়েকটি পরিবার বসবাস করছে। সম্প্রতি নতুন করে ভবন নির্মাণ শুরু হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রাজ্জাকের কাছে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে উত্তেজিত আচরণ করেন। তিনি দাবি করেন, ভূমিহীন হওয়ায় সেখানে বসতঘর নির্মাণ করছেন। তবে জমির মালিকানা বা বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
একপর্যায়ে রাজ্জাকের স্ত্রী ও শাশুড়ি ঘটনাস্থলে এসে সাংবাদিকদের উদ্দেশে অশোভন ভাষায় কথা বলেন এবং স্থানীয় লোকজন জড়ো করে সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় সাংবাদিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও ঘটে, যার ফলে এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, খালের জায়গা ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণের কারণে পানি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে বোরহানউদ্দিন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রনজিৎ চন্দ্র দাস বলেন, “সরকারি খাস জমি ও খাল দখল করে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই। অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে অবৈধ দখল উচ্ছেদসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “গণমাধ্যমকর্মীদের কাজে বাধা প্রদান বা অসদাচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনায়ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল সরকারি খাল ও খাস জমি রক্ষায় প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ দাবি করেছে। তাদের মতে, এভাবে সরকারি সম্পত্তি দখল অব্যাহত থাকলে পরিবেশ ও জনস্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এনআর/এসআর