সাভারের আশুলিয়ায় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর এবং বিএসটিআই এর অনুমোদন ছাড়াই চকলেট, ম্যাগো বার, হজমি, টেস্টি স্যালাইন ও ওরস্যালাইন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এ সময় কারখানাটিকে ৩ লক্ষ টাকা জরিমানা ধার্যসহ বিপুল পরিমাণ উৎপাদিত পণ্য জব্দ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে আশুলিয়ার কাঠগড়া বাজার এলাকায় অবস্থিত বেস্ট টেস্টি ফুড কারখানায় এই অভিযান পরিচলনা করেন ভোক্তা অধিদপ্তরের ঢাকা জেলার সহকারী পরিচালক হাসানুজ্জামান।
তিনি বলেন, 'নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার আশুলিয়ার কাঠগড়া বাজার এলাকায় অনুমোদনহীন খাদ্য পণ্য তৈরীর কারখানায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। কারখানাটিতে এসএমসির ওরস্যালাইন নকল করে হুবুহু ওরস্যালাইন এবং টেস্টি স্যালাইন তৈরী করা হচ্ছিলো। এই স্যালাইন তৈরী করতে হলে ঔষদ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমিত প্রয়োজন।'
কারণ হিসেবে তিনি বলেন, 'যেকোনো ধরনের ডায়রিয়া এবং পানি শুন্যতার রোগে এই স্যালাইন ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সেই স্যালাইন এখানে অনুমোদন ছাড়াই উৎপাদন করা হচ্ছে। এখানে যে কেমিক্যাল, ফ্লেভার এবং রং দেখলাম সেগুলোর বিষয়ে আমরা নির্দেশনা দিয়েছি খাদ্যপণ্য তৈরীতে ব্যবহৃত এসব উপাদানের সঠিক সোর্স তারা মেইনটেন করছেনা এবং সঠিক লেভেল তারা মেইনটেন করছেনা।'
হাসানুজ্জামান বলেন, 'ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করার পাশাপাশি তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে। এখানে উৎপাদিত স্যালাইনগুলোর মধ্যে ৪৫ কার্টুন স্যালাইন সীলগালা করে রাখা হচ্ছে, যাতে এগুলো বাজারে না যায়। এছাড়া যেসব স্যালাইন ইতিমধ্যে বাজারে ছাড়া হয়েছে সেগুলো যাতে কারখানায় ফিরিয়ে এনে ধ্বংস করা হয়। ভবিষ্যতে স্যালাইন উৎপাদন করতে হলে অবশ্যই অনুমোদন নিয়ে উৎপাদন করতে হবে।'
তিনি বলেন, 'এই প্রতিষ্ঠানটি আমাদের নজরদারির মধ্যে থাকবে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে আমাদের সাথে যোগাযোগ করার কথা বলা হয়েছে। কারখানা পরিচালনার জন্য যেসব কাগজ লাগবে অবশ্যই সেসব কাগজ নিয়ে নিয়ম মেনে কারখানা পরিচালনা করতে হবে। অন্যথায় আমরা কারখানাটি স্থায়ী ভাবে সীলগালা করে দেবো।'
তিনি আরও বলেন, 'এছাড়া এই কারখানায় যিনি কেমিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি প্রকৃত কেমিষ্ট নন। তিনি একজন সাধারণ কর্মচারী হয়ে এ্যাপ্রন পড়ে কেমিস্টের দায়িত্ব পালন করছেন। কাজেই যে মানমাত্রায় স্যালাইন তৈরীর কথা সেই মানমাত্রা আমরা এখানে পাইনি। সঠিক মানমাত্রা ছাড়া উৎপাদিত স্যালাইন খেয়ে কারও উপকার তো হবেনা বরং ক্ষতি হবে। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর এবং বিএসটিআই এর অনুমোদন ছাড়াই এখানে চকলেট, ম্যাগো বার, হজমি, টেস্টি স্যালাইন ও ওরস্যালাইন তৈরী করা হচ্ছিলো সেগুলো সীল করে তাদেরকে ৩ লক্ষ টাকা জরিমানা এবং নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এই নির্দেশনা অমান্য করলে জরিমানার পরিমাণ আরও বাড়বে এবং কারখানাটি স্থায়ী ভাবে বন্ধের ব্যবস্থা নেয়া হবে।'
অভিযানে সাভার উপজেলা প্রশাসন, আশুলিয়া থানার পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সহায়তা করেন।
ওএফ/এমএ