সাভারের আশুলিয়ায় সাত বছর বয়সী এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে ইলিয়াস নামে এক শিক্ষক ও মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আনোয়ার হোসেনকে আটক করেছে থানা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে আশুলিয়ার দক্ষিণ গাজীরচট সিনসিন মোড় এলাকার রাওজাতুল কুরআন আধুনিক নূরানী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসা থেকে তাদের আটক করা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে ওই মাদ্রাসায় যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা। যৌন হয়রানির শিকার শিশুটি তার চাচা আলামিনের বাসায় থেকে মাদ্রাসাটির প্রথম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত।
আটক ইলিয়াস ময়মনসিংহ জেলার পূর্বধলা উপজেলার কুকলা গ্রামের আব্দুল হালিমের ছেলে। প্রিন্সিপাল আনোয়ার হোসেনের গ্রামের বাড়ি নওগাঁ জেলায়। তারা দুজনই আশুলিয়ার দক্ষিণ গাজীরচট সিনসিন মোড় এলাকার রাওজাতুল কুরআন আধুনিক নূরানী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর স্বজনরা জানান, শিশুটির বাবা বিদেশে থাকেন এবং মা গ্রামের বাড়িতে থাকেন। শিশুটি এখানে চাচার বাসায় থেকে চাচাতো বোনের সঙ্গে ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। প্রতিদিনের মতো সে বিকেলে ক্লাস শেষে বাসায় এসে খাটের এক পাশে বসে কান্না করছিল। এ সময় তার চাচি কান্নার কারণ জানতে চাইলে সে যৌন হয়রানির ঘটনাটি খুলে বলে।
শিশুটির বরাত দিয়ে পরিবারের সদস্যরা জানান, মঙ্গলবার বিকেলে মাদ্রাসার শিক্ষক ইলিয়াস ওই শিক্ষার্থীকে কৌশলে ডেকে নিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাত দেন এবং নানা প্রলোভন দেখিয়ে যৌন হয়রানির চেষ্টা করেন। পরে বিষয়টি জানতে পেরে তারা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে জানান। এরপর মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করেন তারা।
ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়রা অভিযুক্ত শিক্ষক ও মাদ্রাসার প্রিন্সিপালকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তাদের থানায় নিয়ে যায়। ভুক্তভোগীর পরিবার এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে অভিযুক্তদের আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ওএফ/আরএন