আমি যেভাবে চলি, যা খাই, যা করতে পছন্দ করি, যেভাবে নিজেকে প্রকাশ করতে চাই অথবা যেভাবে চলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি, যে সমস্ত আচার-অনুষ্ঠান কিংবা নিয়মিত কার্যে নিমগ্ন থাকি-এসবকিছু মিলেই গঠিত আমার সংস্কৃতি। সংস্কৃতি একই সঙ্গে আমার আত্মা এবং দেহ। দুয়ের পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার সম্মিলিত প্রস্ফুটিত রূপ হচ্ছে আমার সংস্কৃতি।
সংস্কৃতির মালিকানা আছে; আছে অধিকার। যা আমার নয় অথবা আমার অধিকারে নেই, তা আমার সংস্কৃতি নয়। সংস্কৃতি কোনো সাময়িক বিষয় বা প্রপ্তি নয়। সতত প্রবহমান সংস্কৃতির স্রোতধারা; স্রোত থেমে গেলে সংস্কৃতি মরে যায়। অবশ্য নিজের মৃত স্রোতকেও পূর্বপুরুষ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি হিসেবে ধারণ করে সংস্কৃতি। গানে, নাটকে, গল্প, উপন্যাসে, শিল্পকলায় আমরা ধরে রাখি ঐতিহ্য। ঐতিহ্যকে ভালোবাসি, লালন করি, চর্চা করি; জীবনযাপনের আবশ্যিক কর্মকাণ্ড হিসেবে বর্তমানের সাথে সম্পৃক্ত করি তাকে। সংস্কৃতি হচ্ছে শিকড়, যে জোগায় জীবনের রসদ; কাজেই সংস্কৃতি হচ্ছে প্রতিটি ব্যক্তির বা সমাজের অথবা রাষ্ট্রের নিজস্ব সম্পত্তি, যা ছাড়া ব্যক্তি বা অন্য কোনো সংগঠনের অস্তিত্বের পরিচয় থাকে না। অস্তিত্বের অহংকার, পরিচয় কিংবা গর্ব অথবা ন্যূনতম স্বীকৃতিপ্রাপ্তির অভিপ্রায় থেকে উৎপত্তি হয় মুক্তির ধারণা। মুক্তি চায় নিজের পরিচয় খুঁজে নিতে কিংবা সাজাতে চায় নতুন পরিচয়।
পৃথিবীর বিবর্তনের ইতিহাস দেখলে আমরা জানতে পাই শূন্য সময় অথবা প্রথম শস্যের প্রবর্তেনর সময় কিংবা জীবচক্রের শুরু থেকেই প্রতিটি অস্তিত্বের সাথে আবশ্যিকভাবেই ওতপ্রোতভাবে লেগে আছে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা। সকল অস্তিত্বের সমস্ত কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রে বসবাস করে মুক্তির চিরন্তন বাসনা। সংস্কৃতি যেহেতু সমস্ত কর্মকাণ্ডের ব্যষ্টিক এবং একই সাথে সামষ্টিক রূপ সেহেতু সংস্কৃতি ও মুক্তি অবিচ্ছিন্ন সত্তা। তবে প্রশ্ন জাগে, কে আগে অথবা কে ধারণ করে কাকে? সংস্কৃতির স্রোতধারা রূপায়ণ করবে মুক্তির অবয়বকে নাকি মুক্তির ফল্গুধারা চিত্রায়িত করবে সংস্কৃতিকে? এর উত্তর খুঁজে পাওয়া বড়ই কঠিন। জলকে জলের ধারা থেকে পৃথক করে দেখা যায় তবে, সেখানে পাওয়া যায় না জীবনের সৌন্দর্য। জীবনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য অথবা নিশানা হলো মুক্তি লাভ; এটাই সৌন্দর্যের পরম আধার। জীবন প্রতিনিয়ত খুঁজে ফিরে মুক্তির ঠিকানা; প্রতিদিন প্রতিক্ষণের নিয়ম আচার তথা সংস্কৃতির চর্চা এগিয়ে নিয়ে যায় মুক্তির পথে। কোথাও কখনো নিয়ম আচার পালনে ব্যত্যয় ঘটলে পিছিয়ে যায় মুক্তির পথে হাঁটার গতি, তাল-লয়-ছন্দ। আবার সংস্কৃতিকে পরম আরাধ্য মেনে গতানুগতিক নিয়ম আচারে আবদ্ধ রাখলে মুক্তির দুয়ার খুলবে না; দেখা মিলবে না প্রভাতী সূর্যের লীলাময় সৌন্দর্য। কেননা সংস্কৃতির স্বতঃসিদ্ধ দুর্বলতা তথা স্থিতাবস্থা বজায় রাখা কিংবা স্থিতিশীল ভারসাম্যের খাতিরে সে নিজে নিজে ভাঙতে চায় না স্থবিরতার খাঁচা। এমনকি বাইরের আগ্রাসী স্রোতে খড়কুটোর মতো ভেসে গিয়ে পরিচয়হীন হওয়ার আশঙ্কাও তাকে চিন্তিত রাখে সবসময়। তবে মুক্তির চেতনা-শিকড় যত বেশি প্রোথিত থাকে সংস্কৃতির অন্তরে তত বেশি সাহসী হয় সংস্কৃতির চলার পথ। এমনকি আঁধার রাতে, ঝড়ের রাতেও সে মুক্তির পতাকা-মশাল হাতে নিয়ে পথ চলে নির্ভয়ে। কাজেই এ প্রতীতি স্বাভাবিক যে মুক্তির চেতনা হচ্ছে সংস্কৃতির আত্মা।
আত্মা না থাকলে যেমন দেহ মূল্যহীন পচনশীল পদার্থ হিসেবে লীন হয়ে যায় অন্যের মাঝে; থাকে না নিজের অস্তিত্ব কিংবা পরিচয়, তেমনি মুক্তির চেতনাবিহীন সংস্কৃতি হচ্ছে মৃতশেওলাঘেরা বদ্ধ জলাশয়। এ অবস্থায় একমাত্র মুক্তিসংগ্রামের ঝড়-জলোচ্ছ্বাস-বন্যা সবকিছুকে ছিন্নভিন্ন করে, সমস্ত স্থবিরতা তথা মৃত্যুকে স্রোতে ভাসিয়ে দিয়ে বুনতে পারে সজীব সংস্কৃতি- নবজীবনের বীজ। নতুন সংস্কৃতিকে লালন করেই এ বীজ থেকেই সৃষ্টি করতে হয় ‘একটি কুঁড়ি দুটি পাতা’।
পৃথিবীর ইতিহাসে মানবসমাজের বিবর্তনে আমরা খুঁজে পাই সংস্কৃতি ও মুক্তির প্রবাহ। এ ধারা কিন্তু সরল রৈখিক নয়, আছে চড়াই-উতরাই; স্বাধীনতার চরম শিখরে ওঠে আমরা ভুলে যাই তাকে রক্ষা করার নিয়মাচার মানতে, মুক্তি-বৃক্ষের শিকড়ে জল ঢালতে; পড়ে যাই গভীর খাদে। আবার খাদে পড়েও মুক্তির চেতনা বীজের ঐন্দ্রজালিক শক্তিতে (পলিমাটির গভীরে লুকিয়ে থাকা ঘাসবীজের মতো) আবার জেগে উঠি আমরা, শামিল হই মুক্তির সংগ্রামে। এ সাংগ্রাম কঠিন হলেও অসাধ্য নয়। পথের বাঁকে পথ হারিয়ে মূল পথে ফিরে আসা কষ্টকর তো হবেই; তবে সংস্কৃতির ঐতিহ্য এবং মুক্তির চেতনাকে না হারালে প্রগতির পথে চলতে বেগ পেতে হয় না কিংবা বেগ লাগলেও তার জোগানে ঘাটতি পড়ে না।
উদাহরণ হিসেবে আমরা যদি চীনের অগ্রগতির দিকে তাকাই তাহলে দেখি যে তার আছে পাঁচ সহস্রাধিক বছরের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য, সাথে আছে সামগ্রিক কল্যাণার্থে পরিচালিত সাংস্কৃতিক সংগ্রাম। মাও-সেতুং-এর সাংস্কৃতিক বিপ্লবকে যদিও অত্যন্ত কঠিন বা রূঢ় বলা হয়, তবে এটাও সত্য যে চীনা সংস্কৃতিকে মুক্তির পথে ধাবিত করে শক্ত কাঠামো সৃষ্টি হয়েছে এই দশকব্যাপী বৈপ্লবিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়েই। অপরদিকে আমরা যদি তাকাই আমাদের বাঙালি সংস্কৃতির দিকে, ইতিহাসের দিকে, তবে দেখতে পাই ভাষা আন্দোলনের মতো এত অনন্য উজ্জ্বল সংগ্রামের ইতিহাস-ঐতিহ্যের অধিকারী হয়েও আমরা গড়তে পারিনি মুক্তির চেতনাসমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক কাঠোমো। অবশ্য আমরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে বঙ্গবন্ধুর অন্তরের বার্তা—‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম' ধারণ করেই জনযুদ্ধে শামিল হয়েছি; নয় মাসে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জন করেছি স্বাধীনতা। একাত্তরের পর নানা চড়াই-উতরাই–মুক্তির পথে বিরোধী শক্তির প্রবল পরাক্রমে হাজির হওয়া, ষড়যন্ত্র ও চাতুরী কৌশলের খেলা এখনো খেলে যাচ্ছে ওরা। তার পরও আমরা মুক্তির চেতনাকে ধারণ করে আমাদের বাঙালি সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। এ পথে সামনে আসবে বাধা; দেখা দেবে কালো মেঘের পাহাড়; সবকিছুকেই মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হবে আমাদের; মেতে থাকতে হবে মুক্তির নিরন্তর সংগ্রামে।
‘একটাই জীবন একটাই পৃথিবী পৃথিবী’–ভালোবাসার আপ্তবাক্য, হৃদয়ের শ্যামল উচ্চারণ। তবে এতে মিশে আছে নিগূঢ় সত্য। বহু বিচিত্র সংস্কৃতির বর্ণিল ধারার মধ্যে আমরা খুঁজি ঐক্য। ভূগোলের সাথে সংস্কৃতির আছে নাড়ির বন্ধন। এ বন্ধনের সূত্র খুঁজে পেলে আমরা পেয়ে যাব প্রকৃত মিলন ক্ষেত্র। জীবনের অস্তিত্বের লাড়াইয়ে, নিরাপদ আবাসস্থলের সন্ধানে, জীবনকে সমস্ত অধিকার দিয়ে সৌকর্যের মালায় তাকে সুশোভিত করার প্রয়াসে, অন্তরের নির্মল বিশ্বাসকে ধারণ করে আমরা পথ চলি; আলো জ্বালাই, নিজস্ব শক্তিতে এগিয়ে যাই সত্যের সন্ধানে। সময়ের সাথে, সময়ের যোজিত ফল—যুগের সাথে সত্যের আছে নিগূঢ় সম্পর্ক। কেউ কাউকে ছাড়তে চায় না; এগিয়ে যেতে চায় হাতে হাত রেখে। জীবনের এই যে গতি- ছন্দময় এগিয়ে চলা—এখানেই ঘটে সংস্কৃতির পরিবর্তন; যুগের ধারার সাথে খাপ খাইয়ে চলা, নতুন নিয়ম নতুন আচারকে জীবনসাথি করা কিংবা যুগের পরিবর্তনের প্রবল স্রোতধারার বিপরীতে ঐতিহ্যের দৃঢ়তাকে ধারণ করে সকলকে সমবেত করা। ঐতিহ্য যতই হোক না সুদৃঢ় সুন্দর, অভ্যন্তরীণ কিংবা বাহ্যিক পরিবর্তনের ধাক্কা সামলাতে গিয়ে তাকে পরিবর্তিত হতেই হয়; এটাই চিরায়ত নিয়ম’।
অন্তত: পৃথিবীর ইতিহাস, মানুষের ইতিহাস তাই বলে; অর্থাৎ সংস্কৃতির পরিবর্তন বা রূপান্তর মানুষের এগিয়ে চালার আবশ্যিক শর্ত। তবে প্রগতি ও সংস্কৃতির পরিবর্তনের গতি এক নয় অর্থাৎ তারা সমতালে চলে না; তাদের গতির সমতা আমাদের কাম্যও নয়। গতি বা পরিবর্তনের নিজস্ব ধর্ম হলো যে—নিরন্তর নতুন নিয়ম, নতুন আচার চালু করা। অপরদিকে সংস্কৃতি ছাড়তে চায় না পুরাতন পথের মায়া; এই মায়াই জীবন চলার পথকে ভারসাম্যে ধরে রেখে এগিয়ে চলে; খাদে পড়ে পথ হারাতে দেয় না। মানুষের জীবনের পরিবর্তনের প্রধান নিয়ামক হচ্ছে প্রযুক্তির উদ্ভাবন; প্রযুক্তি সবকিছুকে বদলে দেয়, জীবনের রসদ উপকরণ সংগ্রহ থেকে শুরু করে জীবনযাপনের সমস্ত ব্যাকরণ বদলে দেয়, এমনকি বদলে দেয় হাজার বছরের লালিত বিশ্বাসের ভিতকেও। তবে এটাও সত্য যে, প্রযুক্তির আবির্ভাব বা বিকাশ মানবসভ্যতার শুরু থেকেই বিরাজমান থাকলেও সংস্কৃতির বৈপ্লবিক পরিবর্তন খুব একটা তীব্রভাবে দৃষ্টিগোচর হয় না। যেমন—তেল আবিষ্কার ও উত্তোলনের প্রযুক্তি অর্থনৈতিভাবে ও বাণিজ্যিকভাবে সমৃদ্ধ করেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে, কিন্তু খুব সামান্য পরিবর্তন হয়েছে তাদের বেদুইন সংস্কৃতির মানসপটে। রাষ্ট্র পরিচালনায় তারা গ্রহণ করতে পারেনি উদার গণতান্ত্রিক ধারা, সাম্যবাদী সমাজব্যবস্থার প্রচলন সে তো বহুদূর; গোষ্ঠীতন্ত্র বা তার বৃহত্তর রূপ রাজতন্ত্র থেকে বের হতে পারেনি তারা।
আবার আমরা যদি ইউরোপের দিকে তাকাই সেখানেও দেখি অর্থনৈতিক উদার ব্যবস্থার মধ্যে নিভৃতে বসবাস করছে বর্ণবাদের কালো তিল; উদারনৈতিকতার খোলস পরেও ছাড়তে পারে না বা লুকাতে পারে না রক্ষণশীলতার পাথর ভারকে। পাশ্চাত্য সভ্যতার প্রবর্তক ধারক-বাহক নিয়ামক বলে যাকে চিনি, সেই আমেরিকা ভুলতে পারে না তার দস্যুতার চরিত্র, এমনকি খোলসে আবৃত করে কিছুদূর কিছু সময় এগিয়ে গেলেও প্রকাশ পায় তার নগ্ন চরিত্র, আধিপত্যবাদের চরম উদাহারণ। একবিংশ শতাব্দীর বিশ্বায়নের প্রস্ফুটন ধাক্কা দিয়েছে এ সমস্ত সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদকে, নিজেরা বিকশিত হওয়ার চেষ্টাও করেছে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে সফলও হয়েছে। বিশেষ করে আফ্রো-এশীয় সংস্কৃতি, যা ছিল মূলত শোষিতের জীবন চলা, মাঝে মাঝে বিদ্রোহ সংগ্রাম—দু-একটা মহাবিস্ফোরণ ঘটনা, ঔপনিবেশিক শৃঙ্খল থেকে ভারত ও চীনের মুক্তি, বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভ, দক্ষিণ আফ্রিকায় কালোদের শাসনক্ষমতা লাভ ইত্যাদি। এ সমস্ত বিস্ফোরক সুন্দর ঘটনার সাথে জ্বলজ্বল করে জলছে মুক্তির সংগ্রামের মহাকাশে মহাত্মা গান্ধী, সুভাষ বসু, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব, নেলসন মেন্ডেলা। মানুষের মুক্তির সংগ্রামের পথে সাফল্য পেয়েছে ল্যাটিন আমেরিকার ফিদেল কাস্ত্রো, যুগোশ্লাভিয়ার মার্শাল টিটো, চে গুয়েভারা সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছতে পারেনি সত্য, কিন্তু মুক্তির সংগ্রামের পথকে সেই করেছে মহিমান্বিত; তার সাহসই পৃথিবীর সকল মুক্তিকামী মানুষের অন্যতম পাথেয়।
সংস্কৃতির রূপান্তর ঘটবে অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক বহু শক্তির প্রভাবে—এটা চিরন্তন সত্য। তবে এটাও সমভাবে সত্য যে, সংস্কৃতির শিকড়ে যদি থাকে মুক্তির চেতনা—কোনো পরিবর্তনই আসল পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না। সংস্কৃতির মৌলিক কাঠামোতে থাকে অর্থনৈতিক শক্তি এবং মানুষে মানুষে জাতি-গোষ্ঠীর মধ্যে অন্তঃসম্পর্ক এবং আন্তঃসম্পর্কের পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া। সৃষ্টির আদিকাল থেকে, সমস্ত জীবজগতে এবং পৃথিবী সৃষ্টির পর থেকে, পৃথিবীতে মানুষের আগমন থেকে, চলছে এ নিয়ত দ্বন্দ্ব-সংঘর্ষ এবং নতুন নতুন নিয়মের বিকাশ; তবে পরিবর্তনের মূল সূত্র একই—শক্তির আপেক্ষিক খেলা। সংস্কৃতি যদি দুর্বল হয়, যদি ধারণ না করে মুক্তির চেতনা, তবে তা আগ্রাসনের স্রোতে ভেসে যাবে খড়কুটোর মতো। এখানেই আমরা খুঁজে পাই সংস্কৃতির মাঝে মুক্তির- স্থাপত্যকলার আসল সৌন্দর্য শক্তি। তার মানে আমরা যদি মনেপ্রাণে অন্তরে ধারণ করি মুক্তির চেতনা, গায়ে পরি গলায় পরি মুক্তির পোশাক, আমাদের সংস্কৃতি শত বাধার দেয়াল ভেঙে এগিয়ে যাবে সমৃদ্ধ আচারে; সমস্ত আগ্রাসনকে রুখবে চেতনার জ্যোতির্ময় রঞ্জনরশ্মিতে। সংস্কৃতির শক্তপোক্ত শিকড়, সুঠাম দেহ ধারণ করবে মুক্তির অমিয় শক্তি; রচনা করবে নিজস্ব সংগ্রামের পথ; অনন্ত ধারায় সে পথে হেঁটে চলবে নিরন্তর।
লেখক: কবি ও প্রাবন্ধিক
(লেখকের ‘মুক্তির সংগ্রাম নিরন্তর’ গ্রন্থ থেকে পুনঃমুদ্রিত)