আজ ৩০ জুন, বায়ান্নো গলির এই বাংলায় এক অনন্য বুদ্ধিবৃত্তিক ও অকুতোভয় যোদ্ধার জন্মদিন। ঘুম ভাঙা চোখে এই লেখার প্রথম শব্দটিতে যার দৃষ্টি পড়বে, তার অন্তরাত্মা যেন এক অপার্থিব দ্রোহ, পরম আবেগ আর তীব্র মুক্তিকামী চেতনায় কেঁপে ওঠে। একহাতে কলম আর অন্যহাতে প্রতিরোধের ঝাণ্ডা নিয়ে তুমি যেভাবে বাংলার আকাশ কাঁপিয়েছিলে, তা বিশ্ব ইতিহাসে বিরল।
ওসমানের এই জন্মলগ্নে কলম ও তলোয়ারের সেই অপূর্ব যুগলবন্দীকে আমরা অবনত মস্তকে কুর্নিশ জানাই। যখনই কোনো অন্যায়ের সামনে আমরা ভয়ে কুঁকড়ে যাই, তখনই তোমার সেই সিংহের মতো তেজ আমাদের কাপুরুষতাকে চরম লজ্জায় ফেলে দেয়। আজ এই ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথেই প্রতিটি স্বাধীনতাকামী মানুষের মননে ওসমানের এই জন্মতিথি রক্তে আগুন জ্বালিয়ে দেয়।
যিনি নিজের জীবনকে বাজি রেখে একটি পুরো প্রজন্মকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়াতে শিখিয়েছিলেন, তাঁর এই পবিত্র স্মৃতিকে স্রেফ একটি ঐতিহাসিক দিনের ফ্রেমে বন্দি করে রাখা অসম্ভব। এই ক্ষণটি কোনো সস্তা আনুষ্ঠানিকতার মেলবন্ধন নয়, বরং আমাদের ঝিমিয়ে পড়া চেতনাকে চাবুক মেরে জাগিয়ে তোলার এক জ্বলন্ত ও প্রাণবন্ত দর্পণ।
চেতনার আঙিনায় সংখ্যার অকাট্য দলিলআমরা যদি আমাদের সামাজিক বিবর্তন ও তরুণদের মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তরের খতিয়ান গভীরভাবে বিশ্লেষণ করি, তবে ওসমানের আদর্শের তীব্রতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বর্তমান বাস্তবতায় দেশের অসংখ্য তরুণ মনে করেন, নীতিহীনতার এই ঘোর অন্ধকারে মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার সবচেয়ে বড় আদর্শিক প্রেরণা ও চালিকাশক্তি হলো শহীদ ওসমানের রেখে যাওয়া বীরত্ব।
অনেকের মতে, তাঁর এই আপসহীন সংগ্রামের পথ অনুসরণ করে স্বৈরাচারী ও অন্যায্য সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে তরুণদের, সরব হওয়ার প্রবণতা আরও জোরালো হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনেক যুবক নিজেদের উদ্যোগ ও অর্থায়নে সামাজিক সচেতনতা, শিক্ষা ও মূল্যবোধভিত্তিক নানা উদ্যোগ গড়ে তুলেছেন, যেখানে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার পরিবর্তে ওসমানের সততা, সাহস ও আদর্শকে অনুপ্রেরণা হিসেবে তুলে ধরা হয়।
একইভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল পরিসরেও তরুণদের নানা আলোচনা, স্মরণ এবং আদর্শচর্চায় ওসমানের বক্তব্য ও সংগ্রামের উল্লেখ নিয়মিতভাবে দেখা যায়। সমর্থকদের ভাষ্য, এসবই প্রমাণ করে যে কোনো প্রতিকূলতাই মানুষের হৃদয় থেকে তাঁর প্রভাব ও আদর্শকে মুছে দিতে পারেনি।
হাদি কি ছিলেন একাধারে লেখক ও যোদ্ধা?আমরা যদি মানবিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও রাজনৈতিক দর্শনের দৃষ্টিকোণ থেকে ওসমানের জীবনকে নতুনভাবে পাঠ করি, তবে দেখতে পাব তিনি স্রেফ একটি সাধারণ চরিত্রের নাম নন, বরং একাধারে ক্ষুরধার লেখক ও অকুতোভয় যোদ্ধা।
তিনি শব্দের তীক্ষ্ণ বাণ ও ওপেড সাহিত্যে এক অনন্য বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন; দেশের শীর্ষ সারির পত্রিকায় প্রকাশিত তাঁর ৫০টিরও বেশি নিবন্ধের প্রতিটি কলাম ছিল একেকটি বৈপ্লবিক ইশতেহার। কোনো আবেগের বশে নয়, বরং কঠিন উপাত্ত, সামষ্টিক যুক্তি ও আন্তর্জাতিক রেফারেন্স দিয়ে সমাজকে জাগিয়ে তোলার এক জাদুকরী লিখনশৈলী ছিল তাঁর। লেখার মাধ্যমে সমাজের অন্ধত্ব, অন্যায় ও যাবতীয় কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তিনি তীব্র আঘাত হেনেছিলেন। তাঁর অপ্রকাশিত ডায়েরি ও দ্রোহের সাহিত্যে লুকিয়ে ছিল গভীর দেশপ্রেম ও সাম্যের অমর কবিতাগুলো, যা আজও মানুষের বুকে কাঁপন ধরায়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বাস্তব চিত্র ও বিপ্লবের দিনলিপি তিনি নিজে মাঠে থেকে লিখে যাচ্ছিলেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য, যার সাথে যুক্ত ছিল তরুণদের উদ্দেশ্যে লেখা তাঁর দিকনির্দেশনামূলক প্রবন্ধের পাণ্ডুলিপি।
সাংস্কৃতিক মনন ও নাট্য আন্দোলনতেও তাঁর অবদান ছিল আকাশচুম্বী; ইনকিলাব মঞ্চের মাধ্যমে গ্রামে গ্রামে অভিনীত সচেতনতামূলক পথনাটকের মূল স্ক্রিপ্ট রাইটার বা রচয়িতা ছিলেন তিনি। তরল সংস্কৃতির ভিড়ে গণমানুষের অধিকার নিয়ে বেশ কিছু কালজয়ী গণজাগরণের গানের গীতিকার হিসেবে তিনি কাজ করেছেন। তাঁর বক্তৃতার তেজ যেমন মানুষকে মুহূর্তের মধ্যে টানত, তেমনি তাঁর প্রবন্ধ মানুষকে গভীরভাবে ভাবতে বাধ্য করত। তিনি ছিলেন বৌদ্ধিক প্রতিরোধের এক সার্থক রূপকার, যিনি তরুণদের নিয়ে নিয়মিত বিশ্বরাজনীতি ও সমাজবিদ্যার বইয়ের ওপর স্টাডি সার্কেল বা পাঠচক্র পরিচালনা করতেন।
তিনি টেবিলের সীমানা পেরিয়ে কেবল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে লিখতেন না, বরং নিজের লেখা লাইনের মর্যাদা রক্ষায় নিজেই রাজপথে লাঠি-বুলেটের মুখোমুখি হতেন। ১০০ বছর পরও যখন এই ভূখণ্ডের মেধা, ত্যাগ ও নিখাদ দেশপ্রেমের ইতিহাস স্বর্ণাক্ষরে লেখা হবে, ওসমানের নাম সেখানে সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো জ্বলজ্বল করবে।
এক অপূরণীয় শূন্যতার ক্রন্দনতোমার জন্মদিনটি আজ এক নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি আমাদের দাঁড় করিয়ে দেয়। গত ১৮ ডিসেম্বর যে কালো দিনটি আমাদের জীবন থেকে তোমাকে কেড়ে নিয়েছিল, তা আসলে কেবল একজন মানুষের প্রস্থান ছিল না; তা ছিল এই বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠতম সম্ভাবনার এক অকাল অবসান।
১৮ ডিসেম্বর আমাদের জাতীয় নীতিনির্ধারণী মেধার যে চরম অপচয় ঘটিয়েছে, তা দেশকে এক গভীর থিঙ্ক ট্যাঙ্কের শূন্যতায় নিমজ্জিত করেছে। দেশীয় নীতি নির্ধারণে তাঁর যে সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিকল্পনা ছিল, তা আজ ফাইলবন্দীই রয়ে গেল। জটিল ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণগুলো সাধারণ মানুষের ভাষায় বুঝানোর মতো তরুণ থিংকার বা চিন্তাবিদদের যে খরা, তা ওসমানের বিদায়ের পর আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। সংসদকে একটি কার্যকর ও যুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার এক বড় স্বপ্ন তাঁর প্রস্থানের সাথে সাথে থমকে গেছে।
একই সাথে তৈরি হয়েছে ঢাকা-৮ আসনের চিরস্থায়ী অভিভাবকহীনতা। ঢাকা-৮ আসন থেকে তাঁর সংসদ সদস্য হওয়ার ঘোষণা ছিল প্রচলিত নোংরা ও কলুষিত রাজনীতি ভাঙার এক নতুন যুগের সূচনা। সেই বিকল্পহীন নেতৃত্বকে হারিয়ে এই এলাকার সাধারণ মানুষ আজ তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় আশ্রয় ও ভরসাস্থলকে হারিয়ে হাহাকার করছে।
রমনা-মতিঝিল এলাকার সামগ্রিক অবয়ব বদলে দেওয়ার জন্য তাঁর নিজের হাতে তৈরি করা অনন্য উন্নয়ন দর্শনের মাস্টারপ্ল্যান আজ অপূর্ণ রয়ে গেল। জুলাইয়ের স্বপ্নের অপূর্ণতা ও আন্দোলন রক্ষার ময়দানেও তাঁর অভাব অপূরণীয়। গণঅভ্যুত্থানের পর শহীদ পরিবারগুলোর অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় তাঁর মতো একনিষ্ঠ কো-অর্ডিনেটর বা সমন্বয়ক আর কেউ নেই। ওসমানের মতো মূল চালিকাশক্তিকে হারিয়ে আজ ইনকিলাব মঞ্চের সহযোদ্ধারা এক গভীর শূন্যতায় ভুগছে।
চব্বিশের বিপ্লব রক্ষা এবং গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে স্বার্থান্বেষী মহলের হাত থেকে রক্ষা করার সবচেয়ে বড় পাহারাদারের বিদায় ঘটে গেছে এই দিনে। বৈশ্বিক দরবারে তরুণের কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করে দিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনীতির মঞ্চে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের পক্ষে কথা বলার মতো এমন নির্ভীক তরুণ মুখকে জাতি আজ হারিয়ে ফেলেছে। প্রবাসীদের অধিকার ও তাদের মেধাকে দেশের কাজে লাগানোর যে স্বপ্ন তিনি দেখিয়েছিলেন, ১৮ ডিসেম্বরের সেই অভিশপ্ত কালো দিনটি আমাদের কাছ থেকে সেই শ্রেষ্ঠ সম্ভাবনাকে চিরতরে কেড়ে নিয়েছে।
এক জীবন্ত উত্তরাধিকারের মহাকাব্যইনকিলাব মঞ্চের অন্যতম প্রেরণার নাম তুমি। আজ ৩০ জুন, তোমার জন্মদিনে ইনকিলাব মঞ্চের প্রতিটি ব্যানার, প্রতিটি স্লোগান এবং প্রতিটি কর্মীর কণ্ঠে যেন প্রতিধ্বনিত হচ্ছে তোমার আদর্শ। কারণ এই সংগঠনটি ছিল তোমার স্বপ্ন, বিশ্বাস ও সংগ্রামের এক জীবন্ত প্রতিফলন। তোমার সাংগঠনিক ভাবনায় গড়ে ওঠা ইনকিলাব মঞ্চ নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছে এমন একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে, যা দলীয় লেজুড়বৃত্তির ঊর্ধ্বে থেকে স্বাধীন ও জনমুখী ছাত্র-জনতার উদ্যোগকে ধারণ করতে চেয়েছে।
কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি অভিন্ন লক্ষ্য ও চেতনায় একত্রিত করার প্রয়াসে তোমার নেতৃত্ব ছিল অনুপ্রেরণার উৎস। সেই অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গিই আজও অনেকের কাছে তোমার নেতৃত্বের অন্যতম উজ্জ্বল দিক হিসেবে বিবেচিত হয়।
ইনকিলাব মঞ্চের মাধ্যমে তিনি সাংস্কৃতিক বিপ্লবের এক নতুন ভাষার জন্ম দিয়েছিলেন। শিল্পের মাধ্যমে প্রতিরোধের এই লড়াইয়ে নাচ, গান, পথনাটক ও কবিতার মাধ্যমে রাজপথে প্রতিবাদের এক নতুন ও নান্দনিক ধারা তৈরি হয়েছিল। কেবল সস্তা স্লোগান নয়, বরং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পলিসি নিয়ে নিয়মিত সেমিনার ও গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে তিনি এক বুদ্ধিবৃত্তিক সমাজ গঠনে কাজ করেছিলেন।
একই সাথে ইনকিলাব মঞ্চ ছিল গণমানুষের এক বিশ্বস্ত ও মানবিক আশ্রয়স্থল। এর জুলাই শহীদদের বিশেষ সেল সর্বদাই শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য দিনরাত তহবিল সংগ্রহের কাজে নিরলসভাবে নিয়োজিত থাকত। যে কোনো জাতীয় দুর্যোগে সবার আগে ঝাঁপিয়ে পড়ার দীক্ষা দিয়ে বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে হাদির নেতৃত্বে মঞ্চের কর্মীরা দুর্গম এলাকায় নিরন্তর ত্রাণ নিয়ে পৌঁছে যেত। সবচেয়ে বড় দৃষ্টান্ত ছিল এর স্বচ্ছতা ও অনন্য আর্থিক মডেল; ফান্ডের প্রতিটি টাকার পুঙ্খানুপুঙ্খ পাবলিক অডিট বা হিসাব জনগণের সামনে প্রকাশ করে তিনি সততার এক বিরল নজির স্থাপন করেছিলেন।
কোনো পদের লোভ ছাড়া হাজারো তরুণকে দেশের জন্য নিঃস্বার্থভাবে খাটানোর এক জাদুকরী ও অনন্য স্বেচ্ছাশ্রমের সংস্কৃতি বুনে দিয়েছিলেন তিনি। হাদির হাত ধরে তৈরি হওয়া এক ঝাঁক ক্ষুরধার, সৎ ও মেধাবী তরুণ আজ তাঁর জীবন্ত উত্তরাধিকার হিসেবে মেন্টরের আদর্শ বয়ে নিয়ে চলেছে। এই প্রলয়ংকরী মঞ্চের সাথে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের যুক্ত করার মাধ্যমে বৈশ্বিক দরবারে দেশের প্রকৃত সত্যকে তুলে ধরার যে নিপুণ কৌশল তিনি দেখিয়েছিলেন, তা প্রমাণ করে ইনকিলাব মঞ্চ সত্যিই তাঁর অবিনাশী আত্মার এক নিখুঁত প্রতিচ্ছবি।
সাংগঠনিক স্বচ্ছতা, মানবিক উদ্যোগ ও ছাত্র-জনতার সামাজিক সক্রিয়তাইনকিলাব মঞ্চের সাংগঠনিক রূপরেখা, তৃণমূল পর্যায়ে এর মানবিক কর্মকাণ্ড এবং চব্বিশের বিপ্লবোত্তর ছাত্র-জনতার সামাজিক সক্রিয়তার চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রচলিত দলীয় লেজুড়বৃত্তির বাইরে স্বাধীন, জনমুখী ও স্বেচ্ছাসেবাভিত্তিক বিভিন্ন উদ্যোগে তরুণদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। অনেক তরুণই রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত সামাজিক ও নাগরিক উদ্যোগে সম্পৃক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করছেন। এই প্রেক্ষাপটে ইনকিলাব মঞ্চকে একটি স্বতন্ত্র ছাত্র-জনতার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উল্লেখ করেন এর সমর্থকরা, যারা সংগঠনটির স্বাধীন সাংগঠনিক কাঠামো ও জনসম্পৃক্ত কর্মকাণ্ডকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।
বাংলাদেশের কওমি ও আলিয়া মাদ্রাসার আলেম-শিক্ষার্থী এবং সাধারণ ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের যে মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব ছিল, তা কমিয়ে জাতীয় স্বার্থে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক প্ল্যাটফর্মে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে গেছেন ওসমান। তাঁর অনুসারীদের মতে, এই দর্শন বিভিন্ন শিক্ষাধারার তরুণদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, সহযোগিতা ও ঐক্যের নতুন ভিত্তি তৈরিতে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রাজপথের প্রতিবাদে প্রচলিত রাজনৈতিক স্লোগানের পাশাপাশি নাচ, গান, পথনাটক, গণসংগীত, আবৃত্তি ও দ্রোহের কবিতার মতো শৈল্পিক প্রকাশভঙ্গির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তরুণদের একটি অংশ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে প্রতিবাদ, সচেতনতা ও সামাজিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার কার্যকর মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করছে।
চব্বিশের বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে আকস্মিক বন্যা ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে দেশের বিভিন্ন এলাকায় তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ বিশেষভাবে লক্ষণীয় ছিল। সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার অপেক্ষা না করে অনেক স্বেচ্ছাসেবী ও যুব সংগঠন নিজস্ব উদ্যোগ, জনসম্পৃক্ততা এবং স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে দুর্গম ও প্রান্তিক অঞ্চলে ত্রাণ, উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করে। এই অভিজ্ঞতা দুর্যোগ মোকাবিলায় তরুণদের সংগঠিত হওয়ার সক্ষমতা ও মানবিক দায়িত্ববোধের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
জুলাই অভ্যুত্থানে গুরুতর আহত ও স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থী ও সাধারণ নাগরিকদের পাশে দাঁড়াতে তরুণদের উদ্যোগে বিভিন্ন সহায়তা ও সমন্বয়মূলক কার্যক্রম গড়ে ওঠে। 'শহীদ ও আহত সেল'সহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগের মাধ্যমে চিকিৎসা সহায়তা, তহবিল সংগ্রহ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টা সামাজিক সংহতি ও মানবিক দায়িত্ববোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে উঠে আসে।
সামাজিক ও রাজনৈতিক তহবিল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আয়-ব্যয়ের হিসাব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ, উন্মুক্ত জবাবদিহি এবং 'পাবলিক অডিট'-এর সংস্কৃতি গড়ে তোলার উদ্যোগ সাম্প্রতিক সময়ে তরুণদের বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে গুরুত্ব পেয়েছে। এই ধরনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিমূলক চর্চা সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন এবং অংশগ্রহণমূলক সামাজিক উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
আত্মিক ইবাদতের গভীরতাআধুনিক প্রযুক্তি ও বর্তমান সমাজ আমাদের বলছে জগত এখন ডিজিটাল রূপান্তর ও ক্ষমতার আধুনিকায়নের দিকে যাচ্ছে। কিন্তু আমাদের প্রজ্ঞা আজ আমাদের বলছে-নিজ ভেতরের মানবিকতা ও সহমর্মিতার জাগরণ ছাড়া বাইরের কোনো উন্নয়নই কল্যাণকর নয়। ইবাদতের আঙিনা যেমন পবিত্র, অন্যের দুঃখে পাশে দাঁড়ানো এবং এতিমের মাথায় হাত রাখাও তেমনি এক মহান আত্মিক ইবাদত।
নিজের মুখোমুখি হওয়া মানে হলো এই যৌথ সামাজিক অবহেলার দায় স্বীকার করা। ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের যে শৃঙ্খলার পাঠ দেয়, তা যেন কেবল পাঠ্যবইয়ের পাতার পরীক্ষায় সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং আমাদের ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় জীবনের প্রতিটি স্তরে প্রতিফলিত হয়। ২০২৬ সালের এই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আমাদের প্রজ্ঞা বলছে, লোকদেখানো বড় বড় বুলি আর ক্ষমতার অহংকারের চেয়ে একটি পরিচ্ছন্ন, বিনয়ী ও দরদী মন নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই স্রষ্টার কাছে সবচেয়ে বড় ইবাদত।
ওসমানের স্বপ্নের বাংলাদেশ কি আমরা গড়তে পারব?শুভ জন্মদিন, হে স্বপ্নের স্থপতি। তোমার জন্মদিনে তোমার স্বপ্ন, আদর্শ ও আত্মত্যাগ নতুন করে স্মরণ করার দিন। বৈষম্যহীন, সার্বভৌম ও আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশের যে স্বপ্ন তুমি লালন করতে, তোমার অনুপস্থিতিতে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের দায় যেন আরও গভীরভাবে অনুভূত হয়।
ওসমান এমন একটি মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থার কথা বলতেন, যেখানে ধর্ম-বর্ণ-পরিচয় নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিক সমান মর্যাদা, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার পাবে। তিনি এমন একটি রাষ্ট্র কল্পনা করতেন, যেখানে অর্থনৈতিক বৈষম্য কমবে, প্রান্তিক ও খেটে খাওয়া মানুষের শ্রমের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত হবে এবং সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। তাঁর বিশ্বাস ছিল, আইনের শাসন ও সমঅধিকার কেবল সংবিধানের পাতায় নয়, মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও প্রতিফলিত হওয়া উচিত।
তাঁর দ্বিতীয় বড় স্বপ্ন ছিল দুর্নীতিমুক্ত পরিচ্ছন্ন সামাজিক রাজনীতি। রাজনীতি থেকে কালো টাকা ও পেশীশক্তির ব্যবহার চিরতরে বন্ধ করার এক নিখুঁত গাইডলাইন তিনি রেখে গেছেন। প্রতিটি সরকারি দপ্তরে আমলাতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে জনগণের সরাসরি সেবা ও স্বচ্ছ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই ছিল তাঁর লক্ষ্য।
তদবির ও ঘুষের সংস্কৃতি ভেঙে কেবল মেধার ভিত্তিতে যোগ্যতার মূল্যায়ন ও চাকরির বাজার নিশ্চিত করার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। ওসমানের জাতীয় নীতি ছিল সার্বভৌম ও মেরুদণ্ডী জাতীয় পলিসি। কোনো বিদেশি শক্তির ইশারায় দাসত্বমুক্ত বাংলাদেশ নয়, বরং দেশের সার্বভৌমত্বকে সবার আগে রেখে বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোই ছিল তাঁর অনমনীয় দর্শন। দেশের বন্দর, খনি ও কৌশলগত সম্পদসমূহ দেশীয় নিয়ন্ত্রণে রাখার অর্থনৈতিক রূপরেখা এবং খাদ্য, প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষায় পরনির্ভরশীলতা কমিয়ে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের স্বপ্ন তিনি বুনতেন।
একটি মেধাকেন্দ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা ও ব্রেইন ড্রেন বা মেধা পাচার রোধের মাধ্যমে দেশের মেধাবী তরুণরা যেন যোগ্য সম্মান ও কাজের সুযোগ পেয়ে দেশের মাটিতেই অবদান রাখতে পারে, এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে দলীয় রাজনীতির আখড়ামুক্ত করে গবেষণাবান্ধব বিশুদ্ধ জ্ঞান চর্চার কেন্দ্রে পরিণত করার যে পথ তিনি দেখিয়েছিলেন, তা আজ আমাদের জন্য এক পরম নির্দেশনা।
অন্তিম আকুতিআমরা যখন ওসমানের মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে প্রকাশিত অডিও-ভিডিও ফুটেজ, বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং প্রকাশ্যে আসা তথ্যগুলো পর্যালোচনা করি, তখন গভীর বেদনা ও ক্ষোভ অনুভব করি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, মৃত্যুর আগমুহূর্তেও তিনি নিজের জন্য প্রতিশোধ নয়, বরং ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত এবং ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছিলেন। সেই আবেদন আজও তাঁর স্বজন, সহযোদ্ধা ও সমর্থকদের কাছে একটি অপূর্ণ দায় হিসেবে রয়ে গেছে।
আজও অনেকের প্রত্যাশা, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের পরিচয় উদ্ঘাটন করে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করা হবে। কারণ একটি ন্যায়সঙ্গত বিচার কেবল একজন মানুষের প্রতি সম্মান প্রদর্শনই নয়, বরং আইনের শাসন, জবাবদিহি এবং ন্যায়বিচারের প্রতি রাষ্ট্রের অঙ্গীকারেরও প্রতিফলন।
ওসমানের স্মৃতির প্রতি প্রকৃত সম্মান জানাতে তাঁর মৃত্যুর ঘটনাটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে আসছেন তাঁর পরিবার, সহযোদ্ধা ও শুভানুধ্যায়ীরা। তাদের বিশ্বাস, সত্য উদঘাটন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই তাঁর প্রতি সমাজের নৈতিক দায়বদ্ধতার যথার্থ প্রতিফলন ঘটবে।
মুক্তির অবিনাশী ইশতেহারদিনশেষে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এই ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে আমাদের একটি কঠিন সত্য উপলব্ধি করতে হবে-পৃথিবীর কোনো আইন, কোনো শাসক বা কোনো রাষ্ট্রব্যবস্থাই একা একটি সমাজকে বদলে দিতে পারে না, যদি প্রতিটি মানুষ নিজ নিজ দায়িত্ববোধ, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ না করে। নিজের চারপাশের মানুষের প্রতি সহমর্মিতা, সততা ও দায়বদ্ধতাই একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজের প্রকৃত ভিত্তি।
আজকের ভোগবাদী ও প্রতিযোগিতামূলক বাস্তবতায় অনেক সময় মনে হয়, জীবন যেন কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য আর নিজের সুখের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অথচ মানুষের জীবনের প্রকৃত সৌন্দর্য নিহিত রয়েছে বিনয়, ত্যাগ, দায়িত্ববোধ এবং অন্যের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করার মানসিকতায়।
ওসমানকে যারা কাছ থেকে চিনতেন বা তাঁর আদর্শে বিশ্বাস করেন, তাদের কাছে তিনি কেবল একজন রাজনৈতিক কর্মী বা চিন্তাশীল ব্যক্তি ছিলেন না; বরং ন্যায়বিচার, মানবিকতা এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে নিবেদিত একজন সংগ্রামী মানুষ হিসেবে স্মরণীয়। তাঁর জীবন ও আত্মত্যাগ আজও অনেকের কাছে সাহস, দায়িত্ববোধ এবং সমাজের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক।
১৮ ডিসেম্বর আমাদের জীবন থেকে যা কেড়ে নিয়েছে, তা কোনোদিন কোনো কিছু দিয়েই পূরণ হওয়ার নয়। ৩০ জুনের এই বিষাদময় জন্মদিনে আমরা তোমার অপূর্ণ স্বপ্ন ও সম্ভাবনাকে নিজেদের কাঁধে তুলে নেওয়ার অঙ্গীকার করছি। ইনকিলাব মঞ্চের প্রতিটি কর্মী আজ শপথ করছে-তোমার গড়ে তোলা এই আদর্শিক ও বৈপ্লবিক প্ল্যাটফর্ম কখনো কোনো অপশক্তি, স্বার্থ কিংবা আপসের কাছে সমর্পণ করা হবে না।
তলোয়ারের ধার একসময় ভোঁতা হয়ে যায়, কিন্তু সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে উচ্চারিত কলমের শক্তি কখনো নিঃশেষ হয় না। ৩০ জুনের এই প্রভাতে তোমার কলম আজও আমাদের পথ দেখায়, সাহস জোগায় এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর শিক্ষা দেয়। তোমার জন্মদিনে আমরাও প্রতিজ্ঞা করছি- আমাদের কলম হবে সত্য, ন্যায় ও মানবতার পক্ষে এক নির্ভীক অস্ত্র।
ওসমান কেবল একটি নাম নয়; তিনি একটি চেতনা, একটি আদর্শ, একটি ঘুমন্ত সমাজকে জাগিয়ে তোলার অদম্য প্রেরণা। তাঁর সাহস, ত্যাগ ও আত্মমর্যাদার আগুন আজও অসংখ্য তরুণের হৃদয়ে জ্বলে। আমরা আর ভীরুতার কাছে মাথা নত করব না। শোষণ, অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম অব্যাহত রাখব।
৩০ জুনের এই পবিত্র সকালে তোমার স্বপ্নের বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে আমাদের হৃদয় ভারাক্রান্ত হয়। অনেক স্বপ্ন আজও অপূর্ণ, অনেক প্রত্যাশা আজও বাস্তবায়নের অপেক্ষায়। তবুও আমরা আশাহত নই। তোমার জন্মদিনে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করছি- তোমার প্রতিটি স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য আমরা নিষ্ঠা, সততা ও সাহস নিয়ে পথ চলব, যত বাধাই সামনে আসুক না কেন।
তোমার চোখের অশ্রু আজ বাংলার তরুণদের অন্তরে প্রতিবাদের আগুন হয়ে জ্বলছে। তোমার আদর্শ আমাদের শক্তি, তোমার আত্মত্যাগ আমাদের প্রেরণা। ইনকিলাবের চেতনা তাই আজও জীবন্ত, কারণ তা মানুষের ন্যায়, মর্যাদা ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।
এই দিনের শেষে মহান আল্লাহর দরবারে আমাদের একান্ত প্রার্থনা- হে আল্লাহ, ওসমানকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করুন এবং তাঁর আত্মত্যাগকে কবুল করুন।
শুভ জন্মদিন, হে সাহসী কণ্ঠস্বর। শুভ জন্মদিন, হে স্বপ্নবাহী পথিক। তুমি স্মৃতিতে, আদর্শে ও প্রেরণায় বেঁচে থাকবে- যতদিন অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষের সংগ্রাম, সত্যের পক্ষে মানুষের উচ্চারণ এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজের স্বপ্ন এই বাংলার বুকে জীবিত থাকবে।
লেখক-ড. তারনিমা ওয়ারদা আন্দালিব, সহকারী অধ্যাপক, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়; গ্লোবাল কনসালট্যান্ট ডিরেক্টর, অক্সফোর্ড ইমপ্যাক্ট গ্রুপ, যুক্তরাজ্য।
দাউদ ইব্রাহিম হাসান, রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়; মাস্টার্স (অর্থনীতি), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়; প্রজেক্ট এনালিস্ট, ইউএনডিপি বাংলাদেশ।
-টিএস