ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
চরফ্যাশনে চিকিৎসকের অবহেলায় প্রসূতির মৃত্যু, এক লাখে রফা!
✎ অবজারভার সংবাদদাতা
⏲ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ১০:৪৬ এএম
X

ভোলার চরফ্যাশনে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশু জন্মদানের সময়ীক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় রোগীর স্বজনরা চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তোলেন।

বুধবার রাতে ইকরা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে।

মৃত মুন্নি আক্তার (২০) উপজেলার আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের মেয়ে। তার স্বামী কাশেম খন্দকার স্থানীয় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনা ধামাচাপা দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই নারীর স্বজনের সঙ্গে এক লাখ টাকায় বিষয়টি মীমাংসা করেছে।

মুন্নির বাবা আনোয়ার হোসেনের ভাষ্য, শুক্রবার দুপুরে তার মেয়ের প্রসব ব্যথা শুরু হয়। পরিবারের সদস্যরা তাকে চরফ্যাশনের ইকরা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যান। সেখানে ডা. আঁখি আক্তার কোনো পরীক্ষা ছাড়াই গর্ভের সন্তানের অবস্থা সংকটাপন্ন তাই অস্ত্রোপচার করতে হবে বলে জানান। নার্সের মাধ্যমে ইনজেকশন দেওয়ার পর থেকেই রোগীর অবস্থার অবনতি ঘটে। সে সময় ছেলের জন্ম হয়। তবে মুন্নি মারা যান।

তার অভিযোগ, মুন্নির মৃত্যুর বিষয়টি গোপন করে চিকিৎসক ও নার্সরা অবস্থা সংকটাপন্ন জানিয়ে তাকে দ্রুত বরিশাল নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে তারা বিষয়টি বুঝতে পেরে ওই ক্লিনিকে প্রতিবাদ শুরু করেন। কর্তৃপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের চাপে পড়ে মেয়েকে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা জানান, অস্ত্রোপচারের সময়ই রোগী মারা গেছেন। পরে তারা মরদেহ ইকরা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে আসেন। হাসপাতাল কর্মকর্তাদের চাপে পড়ে লাশ নিয়ে বাড়ি ফেরেন।

আনোয়ার জানিয়েছেন, রাতেই তারা বাড়িতে মুন্নির লাশ দাফন করেন। এরপর হাসপাতালের কর্মকর্তারা বাড়িতে এসে ভূমিষ্ঠ নবজাতকের চিকিৎসা করানোর জন্য এক লাখ টাকা দিয়ে যান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এর আগেও ডা. আঁখি আক্তারের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসায় আরও তিন জন গর্ভবতী ও প্রসূতি নারীর মৃত্যুর অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

ওই হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসক আঁখি আক্তারকে পাওয়া যায়নি। তিনি ফোনও ধরেননি।

হাসপাতালের পরিচালক বশির আহমেদের ভাষ্য, ওই নারীর পরিবার বাড়িতে স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা করেছিল। যখন হাসপাতালে আনা হয়, তখনই প্রসূতির অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল। গর্ভের সন্তানের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় দ্রুত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসক। পরে প্রসূতির জ্ঞান ফেরেনি। এ জন্য
তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল নেওয়ার পরামর্শ দেন। 

চিকিৎসকের ধারণা, অস্ত্রোপচারের সময় ওই নারী স্ট্রোক করেন। এতেই তিনি মারা যান।

এ ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত অভিযুক্ত চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এসএফ/এমএ


Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝