নওগাঁয় চলতি এসএসসি, মাদ্রাসা ও ভোকেশনাল পরীক্ষাকে সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত রাখতে প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করেছে জেলা প্রশাসন। এ ব্যবস্থার আওতায় জেলার সব পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে তা জেলা পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। ফলে এক স্থান থেকেই সব কেন্দ্রের সার্বিক পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা যাচ্ছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, জেলার ৩৯টি এসএসসি, ১৪টি মাদ্রাসা ও ১৩টি ভোকেশনাল কেন্দ্রসহ মোট ৬৬টি পরীক্ষা কেন্দ্র এ ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ কেন্দ্রে সিসিটিভি সংযোগ সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি কেন্দ্রগুলোতেও দ্রুত সংযোগ স্থাপনের কাজ চলছে।
চলতি পরীক্ষায় এসব কেন্দ্র মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থী ২৪ হাজার ৬৮০ জন। এর মধ্যে ৮০৩ জন অনুপস্থিত রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সিসিটিভি মনিটরিংয়ের মাধ্যমে কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক, কক্ষ পরিদর্শক ও সংশ্লিষ্টদের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা যাচ্ছে। কোনো অনিয়ম বা অসংগতি ধরা পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। এতে নকল প্রতিরোধ, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পরীক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে এ উদ্যোগ।
নওগাঁ শহরের এক অভিভাবক এমদাদুল হক বলেন, “সিসিটিভি নজরদারির কারণে পরীক্ষার প্রতি আমাদের আস্থা বেড়েছে। আমরা চাই আমাদের সন্তানরা নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা দিক।”
একজন পরীক্ষার্থী বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার শিক্ষাব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা বাড়িয়েছে, ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয়ের মধ্যেই দায়িত্ববোধ বৃদ্ধি পেয়েছে।
নওগাঁ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের সচিব ও প্রধান শিক্ষিকা রাবেয়া খাতুন বলেন, “সিসিটিভি মনিটরিংয়ের ফলে কেন্দ্রের ভেতরে শৃঙ্খলা অনেক বেড়েছে। এতে নকল বা অনিয়মের সুযোগ কমেছে।”
নওগাঁ ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার কেন্দ্র সচিব মো. রমজান আলী প্রামানিক বলেন, “এ ব্যবস্থার কারণে কেন্দ্র পরিচালনা সহজ হয়েছে এবং বহিরাগতদের অনৈতিক প্রভাব কমেছে।”
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. মাসুদুল হক বলেন, “কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকেই তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে।”
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমরা পরীক্ষার পরিবেশ সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত রাখতে চাই। তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থা সেই লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য জেলাতেও এটি অনুসরণযোগ্য মডেল হতে পারে।
কেকেএইচ/এসআর