ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
শাহজাদপুরের প্রকল্প কর্মকর্তা দুদকের মামলায় আটক
✎ অবজারভার সংবাদদাতা
⏲ প্রকাশিত: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ৯:৩৫ পিএম
X

দুর্নীতির মামলায় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আবুল কালাম আজাদকে গ্রেফতার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (৪ মে) দুদকের পাবনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাধন চন্দ্র সূত্রধর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল (৩ মে) রোববার দিবাগত রাতে পাবনা সদর থানার গোপালপুর এলাকার নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে রাতেই তাকে পাবনা সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালে আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের ৮ মে তার বিরুদ্ধে, তার স্ত্রী মর্জিনা খাতুন ও ছেলে ফজলে রাব্বি রিয়নের নামে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারি করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তারা ৩ জুলাই দুদকে সম্পদ বিবরণী জমা দেন।

পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১১ মার্চ দুদকের সহকারী পরিচালক সাধন চন্দ্র সূত্রধর বাদী হয়ে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেন। তিনি জানান, মামলায় পিআইও আবুল কালাম আজাদ ১ কোটি ৩২ লাখ ৪৬ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন, যা দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এছাড়া তার স্ত্রী মর্জিনা খাতুন স্বামীর অবৈধ আয়ের মাধ্যমে ১ কোটি ৫৬ লাখ ৮৩ হাজার ৪৮৩ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রেখেছেন, যা একই আইনের ২৭(১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অন্যদিকে ছেলে ফজলে রাব্বি রিয়নের বিরুদ্ধে বাবার অবৈধ ১ কোটি ১৫ লাখ ৩৬ হাজার ৯৪১ টাকা মূল্যের সম্পদ ভোগদখলের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এছাড়া আবুল কালাম আজাদের শ্যালক জামাল উদ্দিন ফকিরের নামেও অস্বাভাবিক সম্পদের তথ্য পায় দুদক। পরে ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর তার নামে সম্পদ বিবরণী নোটিশ জারি করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ৮ ডিসেম্বর ৩২ লাখ ৪৬ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর এবং ১ কোটি ৩৩ লাখ ১১ হাজার ১৮২ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদের তথ্য দেন। তবে অনুসন্ধানে তার নামে ৩২ লাখ ৪৬ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর এবং ১ কোটি ৫৯ লাখ ৪০ হাজার ১৮২ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর দুদকের সহকারী পরিচালক সাধন চন্দ্র সূত্রধর বাদী হয়ে আরও একটি মামলা দায়ের করেন। এতে জামাল উদ্দিন ফকিরকে প্রধান এবং আবুল কালাম আজাদকে দ্বিতীয় আসামি করা হয়।

পাবনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ তারিকুল ইসলাম জানান, দুদক বিশেষ অভিযান চালিয়ে রোববার রাতে ওই পিআইওকে গ্রেফতার করে থানায় হস্তান্তর করে। সোমবার (৪ মে) দুপুরে গ্রেফতারকৃত আবুল কালাম আজাদকে আদালতের মাধ্যমে পাবনা জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে সোমবার (৪ মে) দুপুরে শাহজাদপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। অফিসের কর্মচারী আলতাফ হোসেন জানান, পিআইও সাহেব অফিসে আসেননি এবং তিনি কোথায় আছেন, তা কর্মচারীরা জানেন না।

আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে শাহজাদপুরে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এলাকায় ব্যাপক দুর্নীতি করেছেন।

উল্লেখ্য, অভিযুক্ত পিআইও আবুল কালাম আজাদ পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের শমসের আলী মিয়ার ছেলে।

এসবি/আরএন


Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝